রেজাউদ্দিন স্টালিন-এর তিনটি কবিতা


প্রকাশিত: ০৭:৩১ এএম, ১৬ আগস্ট ২০১৫

এক দার্শনিকের মুখোমুখি

‘নিজেকে জানো’
বলতে-বলতে ঘেন্না ধরে গেছে,
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন।

আত্মা কি, ঈশ্বর কোথায়?
ভাবতে-ভাবতে উই ধরেছে জঙ্ঘায়।
পৃথিবী কবে থেকে সূর্যের চারদিকে
ঘুরতে শুরু করলো তা স্রষ্টা ছাড়া কেউ জানে না।
তপোবলে এইসব বিজ্ঞানীদের ধুলোয়
মিশিয়ে দিতে পারতেন ঋত্বিক বিশ্বামিত্র,
কিন্তু তিনি ব্যস্ত ব্রাম্মণ হতে।

দেখুন- একই নদীতে কেউ দুবার স্নান করে না
হেরাক্লিটাসের এই নদী কোথাও আছে?
আর প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া একথা
পাগলে ও মানবে না,
এখন পৃথিবী প্রতিক্রিয়াহীন-স্তব্ধ।
শুধু সেই আপেল বৃক্ষ মাধ্যাকর্ষণে
যার ডালপালা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে স্ফুলিঙ্গ।
বরং একটা আনন্দদায়ক স্মৃতি- যা আপনি জানতে চান
প্লেটো কবিদের তাড়িয়ে দিচ্ছিলেন আদর্শ থেকে
তার সাহায্যে জড়ো হয়েছিলো ধর্মাবতারগণ
তাদের সাথে আমিও ছিলাম, এখনো আছি

এই রক্তস্রোত

রক্ত তরবারী চুইয়ে মাটিতে পড়ছে
চিবুক চুইয়ে পদতলে
বুক থেকে নক্ষত্রে
লাল কালো নিরব ও নিষ্ঠুর
এই রক্তস্রোত
পদ্মামেঘনা ব্রহ্মপুত্র বেয়ে
বঙ্গোপসাগরে
কতকাল কতযুগ বহমান রক্তস্রোত
প্লাবন ও পলিতে সমৃদ্ধ করেছে সংগ্রাম
ঢেউয়ের চূড়ায় রক্ত, ফেনায় ফেনায়

এই রক্তস্রোত হৃদয়োত্থিত
দিন ও রাত্রির আবর্তন ভেঙে
পদক্ষেপের পেছনে পেছনে ধাবমান
দৃশ্যমান সমস্ত সবুজের শিরায় শিরায়
সূর্যমুখী মানুষের চোখে চোখে, আকাশে আকাশে
বংশানুক্রমে প্রাণী ও প্রকৃতির রক্তাঞ্জলি
স্বপ্নের পায়ে

কেউ তা জানে না রক্তস্রোত থিতু হয়ে কোথায় দাঁড়াবে
কোন দেশে কোন কালে
কার স্বপ্নদগ্ধ করতলে

রক্তমাখা চাঁদ

সূর্য ডোবার সাথে সাথে হারিয়ে গেছে দিন
শহরতলী ক্রমেই হলো বিদ্যুতের অধীন

দিনের মতো মনে হলেও আকাশ জুড়ে রাত
ছড়িয়ে দিলো হীরের মতো তারার সাদা দাঁত

দাঁতে রক্ত মুখে রক্ত রক্তমাখা চাঁদ
ফ্লাটের গুহায় লুকিয়ে আছে ভ্যাম্পায়ারের ফাঁদ

ফাঁদে পড়েই নিত্য মানুষ হারাচ্ছে সবকিছু
হ্যামিলনের বংশীবাদক সব্বাই তার পিছু

কোথায় যাবে কেউ জানে না মিনতরের ধাঁধাঁ
ডাইনীদের খোঁয়াড়ে সব মানুষ-ভেড়া বাঁধা

মানুষ এখন ভেচড়া হচ্ছে ইঁদুর হচ্ছে পেঁচা
উপার্জনের প্রধান উৎস মনুষ্যত্ব বেচা

মনুষ্যত্ব বেচে দিলেই অর্জিত হয় সব
ভ্যাম্পায়ারের রাজত্বে আজ রক্তমদোৎসব

উৎসবের আগুনে ছাই অমূল্য রুপকথা
পাশা খেলায় প্রমাণ হবে কার বেশি যোগ্যতা

সূর্য ডুবুক রাত্রি আসুক কি আসে যায় তাতে
অন্ধকারেই বাঁচতে হবে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে

এইচআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :