নারী প্রার্থী আশানুরূপ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ক্ষোভ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের এই প্ল্যাটফর্ম এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনি রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। নারী-পুরুষ জনসংখ্যার অনুপাতে এই সংখ্যা চরম ভারসাম্যহীন চিত্র তুলে ধরে।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আরও উল্লেখ করে, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল থেকেই কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমনকি যে রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে তাদের নেতৃত্বে ৪০ শতাংশ নারী থাকার দাবি করে, সেই দল থেকেও একজন নারীকে মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৭২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং বাকি ৩৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই চিত্র প্রমাণ করে যে ক্ষমতার কাঠামোতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির মতে, প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াই করেই নারীকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিতে হয়। অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে যতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ততটা গুরুত্ব পায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমাজে ক্রমবর্ধমান নারী-বিদ্বেষী সংস্কৃতির কারণে অনেক নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে শঙ্কা বোধ করছেন। এটি পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন এবং একই সঙ্গে সেই সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল। অথচ ১৯৫২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান, যা রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে তাদের পুরুষ নেতৃত্ব নানা সময়ে কাজে লাগিয়েছে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ কাঠামো গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সমঅংশীদারত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
এসইউজে/ইএ/এমএস