উত্তরায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি এমজেএফের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) সম্প্রতি উত্তরায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনিভাবে গৃহকর্মে নিযুক্ত ওই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীসহ গ্রেফতারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে সংস্থাটি।

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, শিশু নির্যাতন মানবাধিকারের একটি ভয়ংকর লঙ্ঘন এবং সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের সুরক্ষার দায়িত্বের সঙ্গে এটি বিশ্বাসঘাতকতা।

আদালতের রেকর্ড অনুসারে, অভিযুক্তদের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা দায়েরের পর চারজন অভিযুক্তকে আরও তদন্তের জন্য কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মেয়েটিকে জুন, ২০২৫ সালে শফিকুর রহমানের পরিবারের কাছে পাঠানো হলেও পরে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সে ফিরে আসার পর দেখা যায়, ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত, পোড়ার ক্ষত ও দীর্ঘকালীন নির্যাতনের চিহ্ন। সঙ্গে সঙ্গেই শিশুকে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।

বাংলাদেশে শিশু শ্রম একটি দীর্ঘকালীন সমস্যা। বাংলাদেশ শ্রম আইন (২০০৬) অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে শিশুদের কাজ করানো নিষিদ্ধ। তবে এ আইনের কার্যত কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না, কারণ গৃহকর্মী হিসেবে শিশুদের নিয়োগের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি নেই।

শাহীন আনাম সরকারকে শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি গৃহকর্মকে শিশুদের জন্য হুমকিস্বরূপ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের পাশে আছি। আমরা এ নৃশংস ঘটনার তদন্ত, ন্যায্য বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। প্রত্যেক শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং শোষণমুক্ত শৈশব উপভোগ করার অধিকার আছে। এখনই সময়, সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধ করা এবং কোনো শিশুকে যেন কাজ করতে বাধ্য হতে না হয় বা নিপীড়ন সহ্য করতে না হয়।’

এ ঘটনা গৃহকর্মে শিশুদের ঝুঁকি এবং বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ও শিশু শ্রম আইন বাস্তবায়নে বিদ্যমান দুর্বলতা তুলে ধরেছে। এমজেএফ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে শক্তিশালী নজরদারি, দ্রুত বিচার কার্যক্রম এবং তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কোনো শিশু নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার না হয়। একই সঙ্গে শিশুদের সব ধরনের সহিংসতা ও শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী আইন প্রয়োগ, সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।