‘পকেটের টাকা খরচ করে পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে গ্রামে যাই’
‘আওয়ামী লীগের সময় ভোট দেওয়ার তেমন আগ্রহ ছিল না। তখন নির্বাচন বলে কিছু একটা আছে তা মনে হতো না। ভোট দিলেও আওয়ামী লীগ পাস করতো, না দিলেও তারা নির্বাচিত হতো। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সেই আগের চিরচেনা উৎসব ফিরে আসছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। এ কারণে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছি।’
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় মহাখালী বাস টার্মিনালে এসব কথা বলেন বগুড়ার আমীর আলী। তিনি ঢাকার লালবাগে একটি মুদি দোকানে কাজ করেন।
আমীর আলীর মতো এমন হাজারো মানুষ মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ কম।

মহাখালী বাস টার্মিনাল হয়ে যারা গ্রামে যাচ্ছেন, তাদের ভাষ্য, গ্রামে গিয়ে নিজ পছন্দের প্রতীকে ভোট দেবেন। এজন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ চান তারা।
মহাখালী বাস টার্মিনালের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দিনে পাঁচ শতাধিক বাস বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল জেলায় চলাচল করে। এছাড়া ওই টার্মিনাল থেকে সিলেটেও বাস চলাচল করে। নির্বাচন উপলক্ষে গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে মানুষ গ্রামে যাওয়া শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী পরিবহনে শতশত দূরপাল্লার বাস সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা রয়েছে।টার্মিনালের সামনে রাখা বাসগুলোতে একেক করে যাত্রী উঠছেন। যাত্রীদের অনেকেই পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন। আবার অনেকে একাই যাচ্ছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহগামী বিলাস পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে যাত্রী চাপ বেশি দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় ইউনাইটেড পরিবহনের টিকিট কেটেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের শাহজালাল। সকাল পৌঁনে ১০টায় তিনি বাসে উঠে বসেন। আলাপকালে শাহজালাল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মাঝে নির্বাচনের আমেজ ফিরেছে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়। আশা করি এবার ভোটের পরিবেশ ভালো থাকবে।

নির্বাচন ও গণভোটের কারণে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা চারদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন তারাও তিন দিনের (১৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার) ছুটি পেয়েছেন। এ কারণে গতকাল মঙ্গলবার থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাসের টিকিট সংকট ছিল। কোনো বাসেই আসন ফাঁকা ছিল না।
তবে মহাখালী বাস টার্মিনালের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। এখানে লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা টিকিট পাচ্ছেন। মহাখালী থেকে বগুড়া ও নওগাঁ যাত্রী পরিবহন করে একতা পরিবহন। সকাল সোয়া ১০টায় যাত্রী নিয়ে টার্মিনাল ছেড়ে এ পরিবহনের একটি বাস।
একতা পরিবহনের চালক মোবারক হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়ছে। কারো টিকিট পেতে সমস্যা হচ্ছে না। যাত্রীরা নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী জোবায়ের মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনি ছুটির কারণে মহাখালীসহ ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোতে সকাল থেকে যাত্রী চাপ রয়েছে। তবে গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা কম। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা চেষ্টা করছেন।
এমএমএ/এমআরএম