জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পের সামনে দিনভর লম্বা লাইন
ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় অনেক জেলায় বন্ধ রয়েছে যানবাহনে তেল দেওয়া কার্যক্রম।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে যানবাহনের লম্বা সারি।
ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, পাম্পটির সামনে বৃহস্পতিবারের তুলনায় লম্বা হয়েছে তেল নিতে আসা যানবাহনের সারি। মোটরসাইকেলের অপেক্ষার লাইন ছাড়িয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরিয়ে জাহাঙ্গীরগেটমুখী সড়কে। ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন আরও দীর্ঘ।
ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের দ্বায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, ‘২টার পর থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে। তেল না থাকার কারণে সকাল থেকে তেল দেওয়া হয়নি। পরে দুই গাড়ি তেল আসছে তারপর থেকে দেওয়া শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যার যতটুকু প্রয়োজন তাকে ততটুকু তেল দেওয়া হচ্ছে।’
লাইন শুরু হয়েছে কখন থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেই সকাল থেকেই আছে। কাল সারারাত তেল দেওয়া হয়েছে, সারারাতই লাইন ছিল।’
যশোর থেকে মোটরবাইক চালিয়ে গাজীপুর যাচ্ছিলেন নাইম। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী স্থানে এসেই ফুরিয়ে যায় তেল। এরপর কোনোরকম গাড়ি নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে পরেন তেলের লাইনে। বেলা ১১ টার সময় লাইনে দাঁড়ালেও তেল বিতরণ শুরু হয় ২ টার পর। বিকেল সাড়ে ৪ টার সময়ও নাইমের সামনে তেল নিতে অন্তত ৫০ জন বাকি চোখে পড়ে।
নাইম বলেন, ‘ভোরে যশোর থেকে রওয়ানা দিয়েছি। যাবো গাজীপুর। ফার্মগেট এসেই গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেছে। পরে গাড়ি ঠেলে এই পাম্পে নিয়ে এসেছি। এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটের ওখান থেকে আরও প্রায় এক কিলোমিটার পেছনে ছিলাম। তখন বাজে ১১টা। এরপর তেল দেওয়া শুরু হলে আগাতে আগাতে এতটাদূর এসেছি। তেল নেবো তারপর গাজীপুর যাবো।’
আসাদগেট তালুকদার তেল পাম্পের সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে। পাম্পটির সামনের দীর্ঘ লাইন শেষ হয়েছে গণভবন সিগন্যালের কাছাকাছি।
দ্বায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী মাসুদ বলেন, ‘কালকে ডিপো বন্ধ ছিল, তেল ছিল না আমদের পাম্পে। আজকে ১২টার পর থেকে ৫ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। গত পরশুদিন ফুল তেল দিয়েছিলাম। কিন্তু যে লাইন ফুল দিলে তেল হবে না। একজন পাবে একজন পাবে না। একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।’
আসাদগেট সোনার বাংলা পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে, লাইন পাম্পটির একপাশ থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী গলি দিয়ে প্রবেশ করে অন্যপ্রান্তে এসে শেষ হয়েছে।
তেলের অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেল চালক সিয়াম বলেন, ‘দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিচ্ছি। গাড়িতে তেল আছে তবুও নিচ্ছি কারল বাইক নিয়ে ঢাকার বাইরে যাবো। ঢাকার বাইরের গিয়ে পাম্পে তেল পাবো এই ভরসায় যাওয়া যাচ্ছে না। সব পাম্প বন্ধ। ফিরেতো আসতে হবে তাই বাইকে ৫/৭ লিটার তেল আছে তারপরও ব্যাকআপ হিসেবে নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আপাতত ২/৩ লিটার নিলেই হবে। এই তেল নিতে লাইনের এই মাথায় দাঁড়িয়ে পুরো এলাকা ঘুরে দুই ঘণ্টা ধরে পাম্পের একগেট থেকে আরেক গেটে পৌঁছাতে পারছি।’
কেআর/এসএনআর