এখন আর বয়স বাধা নয়, জাতীয় দলে খেলার যোগ্য সূর্যবংশি
ভারতের উদীয়মান ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশি শুক্রবার (২৭ মার্চ) ১৫ বছরে পা রেখেছেন, আর এই বয়সেই তিনি স্পর্শ করলেন এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইতোমধ্যেই আইপিএলে ভারতের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়ে আলোচনায় থাকা এই কিশোর ক্রিকেটারের সামনে এখন খুলে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার দরজাও।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে হলে তার বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর হতে হবে। আইসিসির ‘ন্যূনতম বয়স যোগ্যতা’ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ম্যাচে (আইসিসি ইভেন্টসহ) খেলতে পারবে তখনই, যখন দল ঘোষণার সময় বা সিরিজের প্রথম ম্যাচের দিনে তার বয়স অন্তত ১৫ বছর পূর্ণ থাকবে। ফলে ১৫ বছরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই সূর্যবংশী এখন ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়ে খেলার জন্য যোগ্য হয়ে গেলেন।
এর আগে তিনি ১৪ বছর বয়সেই সাম্প্রতিক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে বিশেষ পরিস্থিতিতে কম বয়সী খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ রাখার বিধানও রয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এই ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ব্যতিক্রমী প্রতিভার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৫ বছরের নিচের খেলোয়াড়দেরও আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার অনুমতি দিতে পারে ‘এক্সেপশনাল সার্কামস্ট্যান্সেস কমিটি’।
এদিকে ২০২৬ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে দেখা যাবে সূর্যবংশীকে। দলটির অধিনায়ক রায়ান পরাগ ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, তরুণ এই ক্রিকেটারকে যেন অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে দূরে রাখা হয়। তার মতে, এত অল্প বয়সে মিডিয়ার বাড়তি মনোযোগ বা চাপ সূর্যবংশীর স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরাগ আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইপিএল ২০২৬-এ সূর্যবংশীকে ভারতের আরেক ওপেনার জসস্বি জয়সওয়ালের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলতে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, একজন অধিনায়ক হিসেবে তার বার্তা হবে- মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকা এবং নিজের খেলাটা উপভোগ করা।
সব মিলিয়ে, ১৫ বছরে পা রাখার মাধ্যমে বৈভব সূর্যবংশির ক্যারিয়ারে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। ইতোমধ্যেই রেকর্ড গড়া এই তরুণ প্রতিভা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার অপেক্ষায়, আর ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তার কাঁধেই অনেকটা নির্ভর করছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইএইচএস/