মোংলা ডিপোতে জ্বালানি তেলের হিসাবে গরমিল, ডিপো ম্যানেজার বরখাস্ত
যমুনা অয়েল কোম্পানির মোংলা ডিপোতে রেজিস্ট্রারের চেয়ে মজুতের হিসাবে সাড়ে ১২ হাজার লিটার বেশি জ্বালানি তেল পাওয়ায় ডিপো ম্যানেজার আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাগেরহাটের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন তিন ট্যাংকে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল পাওয়া গেছে, যা কোম্পানির হিসাবের খাতায় ছিল না।
গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) দিনগত রাত ১২টা ৩৯ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত যৌথ অভিযানের সময় তেলের মজুতের ব্যাপক অনিয়ম ও গরমিল ধরা পড়ে। অভিযানে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড অংশ নেয়। তবে রাতে অভিযান চলাকালে ডিপো ম্যানেজার কর্মস্থলে ছিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েল কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. মাসুদুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে তেল বেশি পাওয়া গেছে, এ ধরনের ঘটনা তেল সেক্টরের প্রায় প্রত্যেক ডিপোতে থাকতে পারে। কারণ জ্বালানি তেলের হিসাব শুধু ট্যাংকের ডিপ মেপে হয় না। তাপমাত্রা ও ঘনত্বের সঙ্গে ডিপ মিলিয়ে তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
মাসুদুল ইসলাম বলেন, মোংলা ডিপোতে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে যে পরিমাণ তেল বেশি পেয়েছে সেটা সত্য হলেও সেখানে তাপমাত্রা ও ঘনত্বের হিসাব মেলানো হয়নি। তারপরেও স্থানীয় প্রশাসন থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের অপারেশন বিভাগ থেকে ডিপো ম্যানেজারকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আমি চিঠিতে সই করেছি।
আরও পড়ুন
ফারাক্কা থেকে দেশ বাঁচাতে হবে পদ্মা ব্যারাজ, ব্যয় ৩৪৪৯৭ কোটি টাকা
মোংলায় অয়েল ইনস্টলেশন কেন্দ্রে অভিযান, ১২৬১৩ লিটার ডিজেল জব্দ
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশের নেতৃত্বে চলা অভিযানে তিন ট্যাংকে তেলের ডিপ পরিমাপ করা হয়। অভিযানকারী দল ডিপোর তিনটি প্রধান ট্যাংক (১, ৯ ও ১৪ নং) পরিমাপ করে। এতে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল বেশি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিপো ম্যানেজার আল আমিন খান জাগো নিউজকে বলেন, মোংলা ডিপোটি যেখানে অবস্থিত সেখানে লোকজনের বসবাসের সুযোগ সুবিধা নেই। আমি আগের দিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তেল ডেলিভারি দিয়েছি। আমার পরিবার খুলনায় থাকে। বাসায় আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ওই রাতে খুলনা চলে যাই। কিন্তু রাতে খবর পাই ডিপোতে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের সময় আমাদের তিনটি ট্যাংকের ডিপ মেপে রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে ১২ হাজার লিটারের মতো তেল বেশি পেয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেল তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে কমে বাড়ে। যখন তাপমাত্রা কমে যায় তখন তেলের পরিমাণ কমে যায়। যখন তাপমাত্রা বেড়ে যায় তখন তেলের পরিমাণও বেড়ে যায়। অভিযানের সময় ডিপ মেপে তেলের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়েছে। টেমপারেচার এবং ডেনসিটিসহ (তাপমাত্রা ও ঘনত্ব) হিসাব করলে তেল বাড়তো না, রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলে যেত। আমরা যখন আগের দিনের রিপোর্ট পাঠিয়েছি তখন টেমপারেচার কম ছিল। যখন অভিযান চালানো হয় তখন টেমপারেচার বেশি ছিল। যে কারণে তেল ডিপ মাপে বেশি হয়েছে।
পুরো ঘটনা অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করলে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে দাবি করে আল আমিন খান বলেন, তাছাড়া বাসায় আমার স্ত্রী অসুস্থ। তাই আমি খুলনা গিয়েছিলাম। পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে অফিসে ফিরে জ্বালানি তেল ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল।
এমডিআইএইচ/কেএসআর