সিগন্যাল অমান্য করলে জরিমানা-কারাদণ্ড, কড়াকড়ি ডিএমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬
শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ/ফাইল ছবি

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট কার্যকর করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে চলাচল কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপার হলে ডিজিটাল মামলাসহ জরিমানা ও কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, কার্যকর ও আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা ও সড়কে যানচলাচলে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করার জন্য সরকার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোকে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ক্রসিংগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে।

ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা এলাকাগুলো হলো- হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, বাংলামোটর ক্রসিং, হোটেল সোনারগাঁও ক্রসিং, ফার্মগেট পুলিশ বক্স ক্রসিং, বিজয় সরণি ক্রসিং, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ক্রসিং, জাহাঙ্গীর গেট ক্রসিং, গুলশান-২ ক্রসিং ও গুলশান-১ ক্রসিং।

এছাড়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পশ্চিম প্রান্ত/আড়ং ক্রসিং, খেজুর বাগান ক্রসিং, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ক্রসিং, মাজার রোড ক্রসিং, আবুল হোটেল ক্রসিং, মৌচাক ক্রসিং, রায় সাহেব বাজার মোড় ক্রসিং ও লাভরোড ক্রসিং অস্থায়ীভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আরও ৬টি ক্রসিংয়ে অর্থাৎ হাইকোর্ট ক্রসিং, কদম ফোয়ারা ক্রসিং, মৎস্যভবন ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, পুলিশ ভবন ক্রসিং ও শাহবাগ ক্রসিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে। যেগুলো শিগগির চালু হবে। পর্যায়ক্রমে উভয় সিটি করপোরেশন এবং ডিএমপি আরও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হবে। এছাড়া পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের উদ্দেশ্যে ডিএমপি রাজধানীর পুরাতন রমনা থানা ক্রসিং (শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি), রমনা পার্কের অরুনিমা গেটের সম্মুখে (হেয়ার রোড), মিরপুর কলেজ/ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সম্মুখে (মিরপুর রোড), গাবতলী পুলিশ বক্সের সম্মুখে (আমিনবাজার ব্রিজের পূর্বে), রামপুরা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ক্রসিং (প্রগতি সরণি) ও কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির সম্মুখে (শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি) সড়কের জেব্রা ক্রসিংয়ে সেফ পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে সব যানবাহন চালকদের নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ করে গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-

  • ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট মেনে চলা: রাস্তার প্রতিটি ক্রসিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট (লাল-সবুজ-হলুদ) যথাযথভাবে অনুসরণ করুন।
  • লাল বাতি লঙ্ঘন না করা ও হলুদ বাতি মেনে চলা: সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলাকালীন কোনোভাবেই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। হলুদ বাতি জ্বললে গাড়ির গতি কমিয়ে থামান অথবা চলাচলের জন্য প্রস্তুত হোন।
  • স্টপ লাইন মেনে চলা: লাল বাতির সিগন্যালে থামার সময় অবশ্যই নির্ধারিত স্টপ লাইন/জেব্রা ক্রসিংয়ের পূর্বে গাড়ি থামান।
  • উল্টোপথে গাড়ি না চালানো: কোনো অবস্থাতেই বিশেষ করে ক্রসিং সমূহে উল্টোপথে যানবাহন চালাবেন না।
  • বামলেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: সোজা বা ডানে যাবেন এমন যানবাহন কোনো অবস্থাতেই ক্রসিং সংলগ্ন বাম লেনে দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।
  • মোড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা: রাস্তার ক্রসিং বা মোড়গুলোতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করবেন না অথবা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।

সড়ক ব্যবহারকারী পথচারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা-

  • পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হবেন এবং পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট আছে এমনস্থানে শুধু সবুজ বাতিতে রাস্তা পারাপার হবেন।
  • পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা।

ডিএমপি জানায়, পথচারীরা যদি জেব্রা ক্রসিং/ফুটওভার ব্রিজ ছাড়া যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হন এবং পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা আছে এমন জেব্রা ক্রসিং এ লাল বাতি অমান্য করে রাস্তা পারাপার হন তাহলে ঘটনাস্থলেই বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে কারাদণ্ড/জরিমানা এবং সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ভিডিও প্রসিকিউশন দায়ের করা হবে।

এ অবস্থায়, ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী সব যানবাহন চালককে উল্লিখিত ক্রসিংসমূহে চলাচলের সময় ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণ অর্থাৎ লাল বাতির সংকেত থাকা অবস্থায় স্টপ লাইনে যানবাহন থামানো এবং সবুজ বাতির সংকেতে যানবাহন চলাচল করার জন্য অনুরোধ করেছে ডিএমপি। একই সঙ্গে পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ/আন্ডারপাস/জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে এবং যেসব জেব্রা ক্রসিংয়ে সেফ পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট রয়েছে সেসব জেব্রা ক্রসিংয়ে সেফ পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইটের সংকেত মান্য করে সবুজ বাতিতে রাস্তা পারাপার হওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএমপি ক্রসিংগুলোতে সিগন্যাল বাতির পোলসমূহে উন্নত মানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছে, যেগুলো ব্যবহার করে ক্রসিংয়ে লাল বাতির সংকেত অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বামলেন আটকে রাখা, জেব্রা ক্রসিং/ফুটওভারব্রিজ ব্যতীত পথচারী পারাপার ইত্যাদির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী শিগগির ডিজিটাল মামলা দায়ের করা হবে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী: ক) কোনো পথচারী বা সড়ক ব্যবহারকারী ট্রাফিক আইন বা সংকেত অমান্য করলে অথবা জেব্রা ক্রসিং/ফুটওভার ব্রিজ/আন্ডারপাস ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপার হলে অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। খ) নির্ধারিত স্থান ব্যতীত যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা করালে অনধিক ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের জন্য ১ পয়েন্ট কর্তন করা হবে। গ) সড়কে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর জন্য বা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে যানচলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যানবাহন চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল লাইটের সংকেত অনুসরণ এবং পথচারীদের পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট অনুসরণ করে সবুজ বাতিতে জেব্রা ক্রসিং এবং অন্যান্য জায়গায় ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।

কেআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।