রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে যেতে চান মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর রমনার বটমূলে আয়োজিত ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এ উপলক্ষে তার নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের আয়োজনে পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ জাগো নিউজকে বলেন, রাষ্ট্রদূত ছায়ানটের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন—এ তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বৈশাখী শোভাযাত্রায় কোন কোন কূটনীতিক অংশ নেবেন, তা এখনো জানা যায়নি।
সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠান শুরু হবে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে। এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান স্রষ্টার গান এবং লোকসংগীত দিয়ে।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে নির্ভয়ে গান গাওয়ার প্রত্যয় নিয়েই এবারের আয়োজন। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৬৭ সালে এই প্রভাতি অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্যে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপিত হবে। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যকে নিয়ে এ বছর চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে সকাল ৯টায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করা হবে।
সকাল ৮টা থেকে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেবে। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত যাবে শোভাযাত্রাটি। পরে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে।
এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি মোটিফ থাকবে। সেগুলা হলো—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া।লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে।
প্রতিটি মোটিফেই প্রতিফলিত হবে বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার গভীর অনুষঙ্গ। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, এসো হে বৈশাখ ও দেশাত্মবোধক সংগীত শোভাযাত্রার আবহকে আরও উদ্দীপনাময়, প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে। শোভাযাত্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন।
পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।
জেপিআই/এমএমকে