বায়ু-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। শুধু ইটভাটা উচ্ছেদই নয়, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। 

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বায়ু দূষণ রোধে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১১টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলা এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী আরও জানান, শব্দ দূষণ রোধে ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পানি দূষণ রোধে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পক্ষে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া, তাই এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ)’ এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)’ প্রস্তুত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং ১ কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)’ গঠন করা হয়েছে।

জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের বিষয়ে তিনি জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে’ (সিসিটিএফ) মোট ৪ হাজার ১৫১ দশমিক ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৮৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮২৮টি প্রকল্প এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৫৩টি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ুর ধরণ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকার প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এনএস/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।