গাছ লাগানো কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিসিদের সহযোগিতা চাইলেন পরিবেশমন্ত্রী 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫২ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, ছবি: জাগো নিউজ

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী গাছ লাগানো কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এ কর্মসূচি।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যে সাংবিধানিক স্ট্রাকচার, তাতে অন্যান্য দেশে যেমন একটা স্থানীয় সরকার থাকে শক্তিশালী, যেমন আমাদের দেশে ইউনিয়ন কাউন্সিল আছে, উপজেলা কাউন্সিল আছে, এখন আমাদের জেলা পরিষদও আছে। কিন্তু জেলা পরিষদ তো ওইভাবে সক্রিয় বা শক্তিশালী না। তো আমরা মন্ত্রণালয় থেকে যাই ব্যবস্থা নিতে চাই, যাই কার্যক্রম হাতে নিই, যেটাই বাস্তবায়ন করতে চাই—আমাদের মূল চাবিকাঠি কিন্তু এখনো জেলা প্রশাসন। 

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন যে কার্যক্রম হাতে নিই—সেটা গাছ লাগানো বলেন, সেটা বায়ুদূষণ কমানো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলেন—যাই আমরা বলি, এগুলো কিন্তু ওনাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া ওই স্তরে সম্ভব না। সেজন্য ওনাদের সমস্যাটাও আমরা শুনছি। বাট আমরাও বলছি যে ওনাদেরকে আমরা যে কার্যক্রমগুলো হাতে নিই, যেগুলো হাতে আছে, যেগুলো হাতে নেব, সেগুলো যেন ওনারা আমাদের সহযোগিতা করে পূর্ণ উদ্যমে, যাতে করে এগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়।’

ডিসিরা কী প্রস্তাব দিয়েছেন জানতে চাইলে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘ওনারা আইনশৃঙ্খলা অবস্থা, রাজনৈতিক অবস্থা—এগুলো বলছেন। এগুলো এমন কোনো কিছু বলে নাই যেগুলো সমস্যাসংকুল যেটা আমাদের উত্তর দেওয়ার দরকার আছে।’

সারাদেশে কৃষিজমিগুলো দখল হচ্ছে, বন উজাড় হচ্ছে। এ ব্যাপারটা একেবারে স্থানীয় পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন মানে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ করার কথা। এ বিষয়ে আপনি কোনো দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন কি না? এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। এখানে আমরা আমাদের কার্যক্রম যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে, বাস্তবায়ন করার জন্য যে সহযোগিতা দরকার, আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তর বলেন বা আমাদের বন অধিদপ্তর বলেন, কার্যকর করার জন্য যে ভূমিকা দরকার সে ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আমরা সহযোগিতা চেয়েছি।’

এরপর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘ওনারা (বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি) কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসি সাহেবরা সবসময় জেলার সমন্বয় সাধন করবেন। মোটামুটি পর্যবেক্ষণ করবেন, সেটা আমরা নির্দেশনা দিলাম। এটা তো আগে থেকেই ছিল। ওনাদের বললাম যে ওনারা যদি সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করেন তাহলে কিন্তু পরিস্থিতি ভালো থাকবে, এখনও ভালো আছে, আগামীতেও ভালো থাকবে—সেটাই আমাদের নির্দেশনা ছিল আর কি।’

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধিবেশনে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানানো হয়।

এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনার বিষয়ে বলা হয়, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বন বিভাগের অনুকূলে গেজেটভুক্ত বনভূমিগুলো বন বিভাগের নামে রেকর্ডভুক্তকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধ এবং বেদখলকৃত বনের জায়গা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন না করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনার বিষয়ে বলা হয়, পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড় কাটা এবং বৃক্ষ নিধন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জুম চাষের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পার্বত্য জেলাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরএমএম/এমএমএআর

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।