দরপত্র ছাড়াই র‍্যাবের জন্য ১৬৩ গাড়ি কেনার পরিকল্পনা

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
নিয়ম অনুযায়ী এসব গাড়ি কিনতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগবে/এআই দিয়ে বানানো ছবি

ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ রেখেছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আভিযানিক সক্ষমতা বাড়ানো লক্ষ্যে ১৬৩টি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রোল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব গাড়ি কেনা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী এসব গাড়ি কিনতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগবে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব গাড়ি কেনার অনুমোদন চাওয়া হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাবের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রোল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ক্রয় পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন পেলে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত ৫ এপ্রিলের পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং র‍্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনায় বিশেষভাবে এই গাড়িগুলো কেনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দ্রুত ক্রয় সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয় সম্পন্ন করতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া গাড়িগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে কেনা হবে। এতে সরকারের টাকা একপ্রকার সরকারের কাছেই থাকবে।

আরও পড়ুন
র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ গুম কমিশনের
যার বিরুদ্ধে ১৮ মামলা তার দায় শুধু র‍্যাব-পুলিশের? প্রশ্ন র‍্যাব ডিজির
গুম-ক্রসফায়ার ইস্যুতে ট্রাইব্যুনাল চাইলে সহযোগিতা করা হবে: র‍্যাব ডিজি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রোল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস কেনা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।’

চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছর তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রোল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনীতি বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত। চলতি আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে বিক্রির লক্ষ্যে এই সয়াবিন তেল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতি লিটার ১.১৫১ মার্কিন ডলার দরে এই সয়াবিন তেল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। এতে প্রতি লিটার তেলের গড় খরচ পড়ছে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১৬ টাকা ৪৪ পয়সা কম।

জানা গেছে, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছর ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। এরই মধ্যে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল কেনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন কাজে ভ্যারিয়েশন হিসেবে অতিরিক্ত ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে এতে মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ১৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্প এলাকায় জলাশয় ও অসমতল ভূমির কারণে অতিরিক্ত কাজ যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে শেরেবাংলানগর প্রশাসনিক এলাকায় ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৪ টাকার আরেকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেয় ১৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

আরও পড়ুন
র‌্যাব নিয়ে যা সুপারিশ করলো পুলিশ সংস্কার কমিশন
র‍্যাবের নতুন নাম ‌এসআইএফ
র‌্যাবের প্রধান কার্যালয় নির্মাণ ব্যয় বাড়লো ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা

বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৬টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল হিসাবে ৭১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধের প্রস্তাবে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন চাওয়া হতে পারে। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদনকালীন সময়ের এই বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

জানা গেছে, এই ৬টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বেসরকারি খাতে স্থাপিত ফার্নেস অয়েলভিত্তিক মদনগঞ্জ ১০২ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ১০০ মেগাওয়াট, সিদ্ধিরগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, নোয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট, খুলনা ১১৫ মেগাওয়াট এবং জুলদা ১০০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল একই বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদনে থাকাকালীন ৭১৬ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ টাকার বিল উপস্থাপন করে। এখন তা পরিশোধের প্রস্তাব ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট ও ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে বিদুৎ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলে একাধিক উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

এমএএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।