বান্দরবান থেকে ফিরে জ্বর, ৩ দিন কোমায় থেকে মৃত্যুর কাছে জুথির হার
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি (৩৬) মারা গেছেন। বিরল মশাবাহিত রোগ ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিসে’ আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বান্দরবানে গিয়েছিলেন জুথি। ভ্রমণ শেষে জ্বর, খিচুনি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে তিন দিন কোমায় থাকেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।
জাকিয়া সুলতানা জুথি সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৪ মে তিনি জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে নগরের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সিভাসুর অধ্যাপক শিরিন আকতার জানান, গত শনিবার (২ মে) রাতে জুথির জ্বর আসে। পরদিন বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সেখান থেকে তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সোমবার (৪ মে) ভোরে জুথির তীব্র খিচুনি হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এমআরআই পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে ক্ষতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মস্তিষ্কে একাধিক স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণ হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসকেরা তাকে ক্লিনিক্যালি ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন।
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর মাল্টিপল স্ট্রোক হয়েছিল।
অন্যদিকে, এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগী যখন তাদের কাছে পৌঁছান তখন তিনি ক্লিনিক্যালি ‘ব্রেন ডেড’ ছিলেন। প্রাথমিক উপসর্গ ও ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন দেখে চিকিৎসকদের প্রবল সন্দেহ যে এটি ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’। এই ভাইরাস মূলত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে আঘাত করে।
ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা শেষ করে দেশে ফেরেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সিভাসুতে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন।
ড. জুথির মৃত্যুতে সিভাসুর উপাচার্য ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
এমআরএএইচ/এমএমকে