নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ-নির্বিঘ্ন করতে সরকার কাজ করছে: নৌমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ১০ মে ২০২৬
নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের নৌপথে যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ থেকে ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘বিপদমুক্ত নৌযাত্রা, জানমালের সুরক্ষা’।

নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপথ মানুষের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নৌদুর্ঘটনা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নৌযান মালিক, চালক ও যাত্রী—সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এরই মধ্যে নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নৌপথ চিহ্নিতকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। একই সঙ্গে নৌপথে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। আমরা চাই প্রতিটি নৌযাত্রা হোক নিরাপদ এবং প্রতিটি পরিবার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাক।

দেশের নৌপথকে শতভাগ নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে মন্ত্রী নৌযান পরিচালনায় নিয়ম-নীতি মেনে চলা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং প্রতিটি নৌযানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা, নিবন্ধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নৌপথে দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নৌপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেন।

নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, সারাদেশে পরিচালিত নৌযান শুমারির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান।

সভাপতির বক্তব্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী বলেন, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট, অনলাইন সেবা প্রদান, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা এবং এলটিএমএস (এলটিএমএস) সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নৌখাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নৌযান মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি, নৌপুলিশ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।