‘সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে ‘সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ’ শীর্ষক বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বাউল সংগীতের মাধ্যমে পরিচালিত এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
রোববার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ডিসিসি মার্কেটের সামনে এ বিশেষ প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় ২০ দিনব্যাপী ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের মোট ১০০টি স্থানে সচেতনতামূলক বাউল সংগীত পরিবেশন করা হবে। বাউল গানের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রচলিত প্রচারণার পাশাপাশি মানুষের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী এই বাউল সংগীতভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকরা নিজ নিজ বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সবাইকে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান।
তিনি আরও বলেন, শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা ঘর করি পরিষ্কার— এই স্লোগান সামনে রেখে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ডিএনসিসি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই। শুধু সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, বাউল সংগীতের মতো জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি কার্যক্রম মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এমএমএ/এমআইএইচএস