‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক কোম্পাানির সঙ্গে আপস নয়’
সরকার তামাক খাত থেকে যত রাজস্ব পায় তার দ্বিগুণের বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, অকাল পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু এবং পরিবেশের ক্ষতির কারণে অপচয় হয়। এ অবস্থায় শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়ার অর্থ হবে আরও বেশি মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সঙ্গে আপস করা।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির সঙ্গে আপস নয়— এ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে শতাধিক তামাক বিরোধী সংগঠন। পাশাপাশি দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাস করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালায় এ আহ্বান করা হয়।
সংগঠনগুলোর মতে, ২০২৫ সালে পাস হওয়া অধ্যাদেশে উল্লিখিত ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসসহ ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের বিধান ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মকে এই পণ্যের ভোক্তা বানানোর পথ সহজ হতে পারে। যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হযেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বাজার সম্প্রসারণ করবে, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও হবে ব্যাপক।
আরও পড়ুন
মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৫০ টাকা, ডিমের ডজন দেড়শ ছাড়ালো
হারিয়ে গেছে মহাস্থান জাদুঘরের একটি মূর্তি, জানা গেলো ১৯ বছর পর
সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, বাংলাদেশে এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া ই-সিগারেটকে ‘কম ক্ষতিকর’ পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই দ্রুত ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করা জরুরি।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) কর্তৃক যৌথভাবে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টাস্কফোর্স কমিটির শতাধিক বেসরকারি সদস্য অংশ নেন। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, আইন বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, তামাক কর এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বিষয়ে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ ও অতিথি আলোচক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ১০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী আয়োজন ছাড়াও একটি প্ল্যানারি সেশন এবং তিনটি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে কর্মশালা পরিচালিত হয়। প্রতিটি সেশনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্কে অংশ নেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের হেড অব প্রোগ্রাম মো. শফিকুল ইসলাম। সেশন সঞ্চালনা করেন সেতুর প্রকল্প পরিচালক (তামাক নিয়ন্ত্রণ) শাগুফতা সুলতানা।
ইএইচটি/কেএসআর