জাইকা সিবিএনএস-২ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৫৫০ জন
দেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং সেবার সক্ষমতা উন্নয়নে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব নার্সিং সার্ভিসেস ফেইজ-২ (সিবিএনএস-২)’ প্রকল্পের ফলাফল ঘোষণা করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এ উপলক্ষে এক সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার এবং ৪৮৬ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষকসহ মোট ৫০০ জন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সেমিনারে সিবিএনএস-২ প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন এবং বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নার্সিং খাতের সংশ্লিষ্টদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত সিবিএনএস-২ প্রকল্পের আওতায় আটটি বিভাগীয় সরকারি নার্সিং কলেজ, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার বাস্তবায়ন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রোগীদের আরও কার্যকর ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী বলেন, জাইকা দীর্ঘদিন বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। সিবিএনএস-২ প্রকল্পটি এমটি ও সিএনটি সমন্বিত ক্যাসকেড মডেলের মাধ্যমে নার্সিং পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন
দুর্নীতির তদন্ত শুরু করায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন দিয়েছে
ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
এ প্রসঙ্গে জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়্যুকো বলেন, সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতাগুলো উপস্থিত সবার কাছে বিস্তারিত উপস্থাপন করাই এই সেমিনারে অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। যাতে করে এ প্রকল্প থেকে যে কার্যকর মডেল ও দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকাতেও উদ্যোগ পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নার্সিং প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার এবং ৪৮৬ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ‘সিবিএনএস মডেল’, যা বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও সেবার সক্ষমতা টেকসইভাবে উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই মডেলের চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- ক্যাসকেড প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, অংশগ্রহণকারীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে কার্যকর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, নার্সিং কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক পারস্পরিক শিক্ষার মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন।
সেমিনারে এসব বিষয় ও প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেসময় নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা নার্সিং মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইএইচটি/কেএসআর