লাল বাতি জ্বললেই ব্রেক, চাকা দাগ ছুঁলেই মামলা
- জরিমানা পরিশোধ না করলে সমন কিংবা পরোয়ানা জারি
- ট্রাফিক পুলিশকে হাত ইশারা করে মানাতে হচ্ছে না আইন
রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণি মোড়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা। ট্রাফিক সিগন্যালে হঠাৎ জ্বলে উঠলো লাল বাতি। সঙ্গে সঙ্গে ব্রেকে চাপ। থেমে গেলো সব গাড়ি। জেব্রা ক্রসিং কিংবা স্টপ লাইন অতিক্রম করেনি একটি বাহনও। সাদা দাগ ছুঁলেই যে অটো মামলা!
এ চিত্র ঢাকা শহরে চলাচলকারীদের কাছে নতুনই বলা যায়। পুলিশ হাত দিয়ে ইশারা করার পর কোনো বাহন ঠিকমতো থামে না, ফাঁক গলে চলে যায় বাইক। আর দাগ ছাড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ বিষয়। চিরাচরিত এ চিত্র বদলে দিয়েছে এআই ক্যামেরা।
বিজয় সরণিতে সিগন্যালের প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলচালক সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভাই এআই ক্যামেরা আছে, সিগন্যাল অমান্য করলে কিংবা দাগের ওপর চাকা গেলেই অটো মামলা হবে।’
স্টপ লাইন অমান্য করছেন না চালকরা/ছবি: জাগো নিউজ
সিরাজুলের মতো সিএনজি অটোরিকশাচালক দিদারুলেরও একই ভয়। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে দেখেছি রাস্তায় ট্রাফিক আইন না মানলে মামলা হচ্ছে। এজন্য নিয়ম মানছি।’
মিলতে শুরু করেছে সুফল
যান চলাচলের দিক দিয়ে চরম বিশৃঙ্খল এ মহানগরে চালকদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে অতীতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সে সব প্রচেষ্টার কোনোটিই সফল হয়নি। এবার চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে প্রযুক্তির ওপর ভরসা করেছে পুলিশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা দিয়ে নজরদারির প্রথম চার দিনেই প্রায় বেশিরভাগ সড়কে ফিরেছে শৃঙ্খলা। ট্রাফিক পুলিশকে হাতের ইশারাও দেওয়া লাগছে না। কেউ আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতাও করছে না।
এআই ক্যামেরা আমাদের হাতে নেই। সম্পূর্ণ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটর ও কন্ট্রোল করা হচ্ছে। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার ছাড় নেই। মামলা হবেই। কোনো তদবির-সুপারিশ চলবে না।-ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমাস হাসান
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এআই প্রযুক্তির সুফল মিলতে শুরু করেছে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের বাঁশি বা হাতের ইশারা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভাঙার দৃশ্য। পরে সেই ফুটেজ যাচাই-বাছাই শেষে দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল মামলা। চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এটি চালু থাকলে ঢাকা শহরে গাড়ির গতি আরও বাড়বে, সড়কে ফিরবে শৃঙ্খলা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের পাশাপাশি বসানো হয়েছে এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ই-প্রসিকিউশন বা ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাও।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ১৩ মে পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রায় ১০ হাজারের বেশি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিন হাজারের বেশি ফুটেজ দেখা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো যাচাই-বাছাই করছে ট্রাফিক পুলিশের টেকনিক্যাল টিম (টিটিইউ)। যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী মামলা ও নোটিশ পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছে।
যে সব আইন ভাঙলেই অটো মামলা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর অন্তত ১০৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন ভঙ্গ, উল্টো পথে চলাচল, জেব্রা ক্রসিং দখল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং ও অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহারের মতো বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত করছে।
গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্তে বসানো হয়েছে পিটিজেড ক্যামেরা
পিটিজেড ক্যামেরা হলো প্যান-টিল্ট-জুম প্রযুক্তির একটি উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো এবং জুম করা যায়। এটি বড় এলাকা, যেমন- পাবলিক প্লেস পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি ঘুরে ঘুরে পুরো জায়গা কাভার করতে পারে।
আরও পড়ুন
স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক মামলা দেবে এআই ক্যামেরা, যেসব ভুল করবেন না
লাল বাতি পার হলেই অটো মামলা; রাস্তায় এখন ‘এআই ক্যামেরা’
অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখছে এআই প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা
এছাড়া চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণ করতে পারে। ওয়াই-ফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অপটিক্যাল জুমের মাধ্যমে অনেক দূর থেকেও স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব।
যেসব এলাকায় এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে
রাজধানীর গুলশান-১, গুলশান-২, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, রামপুরা ট্রাফিক বক্স, মহাখালী, শাহবাগ, হাইকোর্ট ক্রসিং, সচিবালয় সিগন্যাল, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, পুলিশ ভবন, পুরাতন রমনা থানা ক্রসিং, বাংলামোটর, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর রোডের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এলাকা, গাবতলী ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে।
এআই ক্যামেরা/ছবি: জাগো নিউজ
ট্রাফিকের নতুন এআই ক্যামেরার প্রভাব দেখতে ১৪ মে রাজধানীর বিজয় সরণি, শাহবাগ, সোনারগাঁও, বাংলামোটর, মৎস্য ভবন ও সচিবালয় সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ত এ সড়কে যানবাহনের চাপ আগের মতো থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির প্রভাব স্পষ্ট।
যার গাড়ি চালাই তিনি বলে দিয়েছেন এআই মামলা হচ্ছে। আগের চেয়ে আমি আরও সচেতন হয়েছি। আমার মতো সড়কে দেখছি প্রায় সবাই সতর্ক। ট্রাফিকের লাল বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ব্রেক করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরাও নিয়ম মানছে।-প্রাইভেটকারচালক কবির হোসেন
মোড়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এআই সক্ষম ক্যামেরা দিয়ে সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভঙ্গ ও উল্টো পথে চলাচলের মতো ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ আইন ভঙ্গ করছে না। প্রায় সব চালকের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও আইন ভাঙছেন না চালকরা
দেখা যায়, সিগন্যাল পরিবর্তনের সময় অনেক চালক আগের তুলনায় বেশি সতর্ক। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে বলে জানান দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা। আগে যেখানে ট্রাফিক পুলিশ না দেখলে অনেক চালক সিগন্যাল অমান্য করতেন, এখন ক্যামেরার উপস্থিতি তাদের আচরণে পরিবর্তন আনছে।
স্টপ লাইন অমান্য করছেন না চালকরা/ছবি: জাগো নিউজ
এ বিষয়ে বিজয় সরণি, শাহবাগ, মৎস্য ভবন ও গুলশান এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং ট্রাফিক ইন্সপেক্টররা জানান, এআই ক্যামেরা চালুর পর আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক সদস্যদের সরাসরি উপস্থিত থেকে গাড়ি থামিয়ে ব্যবস্থা নিতে হতো, এতে সময় ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি যানজটও তৈরি হতো। এখন ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ হওয়ায় কাজের চাপ কিছুটা কমেছে এবং প্রমাণভিত্তিক মামলা দেওয়া সহজ হচ্ছে।
তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিজয় সরণি মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমাস হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এআই ক্যামেরা আমাদের হাতে নেই। সম্পূর্ণ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটর ও কন্ট্রোল করা হচ্ছে। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার ছাড় নেই। মামলা হবেই। কোনো তদবির-সুপারিশ চলবে না।’
যা বলছেন চালক ও যাত্রীরা
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এআইচালিত ক্যামেরা বসানোর পর বেশিরভাগ চালক এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হয়ে চলছেন। চালকরা বলছেন, কোথায় কখন ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের ফুটেজ ধারণ হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়েই নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।
১৩ মে একদিনে ৭৪৮টি ট্রাফিক আইন অমান্যের ফুটেজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে না। প্রাথমিকভাবে যারা বেশি আইন অমান্য করেছে শুধু তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। যাতে মানুষ সচেতন হয়। ভবিষ্যতে যারা আইন ভাঙবে সবার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।-ডিএমপির ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ
শাহবাগ মোড়ে প্রাইভেটকারচালক কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘যার গাড়ি চালাই তিনি বলে দিয়েছেন এআই মামলা হচ্ছে। আগের চেয়ে আমি আরও সচেতন হয়েছি। আমার মতো সড়কে দেখছি প্রায় সবাই সতর্ক। ট্রাফিকের লাল বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ব্রেক করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরাও নিয়ম মানছে। আগে মোটরসাইকেলচালকরা আইন ভাঙতো বেশি।’
আইন মানায় জেব্রা ক্রসিং পার হওয়া সহজ হয়েছে/জাগো নিউজ
ফার্মগেট মোড়ে অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী ফাবিহা তাবাসসুম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে অনেক সময় সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তা পার হতে ভয় লাগতো। এখন চালকরা কিছুটা ধীরে ও সতর্কভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হলে সড়কে শৃঙ্খলা আরও ফিরবে।’
যেভাবে কাজ করছে এআই ক্যামেরা
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগে সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পজ (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়। তবে, সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরও বাড়তো। সেই সমস্যা কমাতেই এআইভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবস্থার দিকে যায় ডিএমপি।
রাজধানীতে স্থাপন করা এসব ক্যামেরায় ব্যবহার করা হচ্ছে ‘রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট-২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার’। ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে সম্পন্ন করা হচ্ছে মামলার প্রক্রিয়া। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের মোবাইলে এসএমএস এবং ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
লাল বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে না থামলে গুনতে হবে জরিমানা/জাগো নিউজ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হয়, তবে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।
ডিএমপির ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৩ মে একদিনে ৭৪৮টি ট্রাফিক আইন অমান্যের ফুটেজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে না। প্রাথমিকভাবে যারা বেশি আইন অমান্য করেছে শুধু তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। যাতে মানুষ সচেতন হয়। ভবিষ্যতে যারা আইন ভাঙবে সবার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।’
রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক আইন ভাঙলে কী হবে?
এআই ক্যামেরায় যদি ধরা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে সেক্ষেত্রে কী হবে সে কথাও সামনে আসছে। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ বলছে, জরুরি সেবাদানকারী যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো চালক এআই দিয়ে মামলা খায়নি। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো অনেক সময় রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রোগী নামায়। রাস্তার পাশে হাসপাতাল, সময় লাগতেই পারে। এআই মামলা আমাদের যদি করে, সর্বোচ্চ মামলা অ্যাম্বুলেন্সে হবে। কাগজপত্র রেডি থাকলেও এবং কাগজপত্র ঠিক না থাকলেও। আমাদের জন্য সরকার কী করবে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই।’
দাগ ছাড়ালেই অটো মামলা দেবে এআই ক্যামেরা/জাগো নিউজ
অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবকিছু তো আইন দিয়ে চলে না। পুলিশের কিছু মানবিক দিক তো দেখতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি অবশ্যই আমরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবো।’
এআই ক্যামেরায় যে সব চ্যালেঞ্জ
নতুন এ ব্যবস্থায় কিছু জটিলতাও সামনে এসেছে। অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেটই নেই। ফলে ক্যামেরা সে সব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না। এ কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে অভিযানে নামছে পুলিশ।
ট্রাফিক বিভাগ জানায়, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে যানবাহন চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপিত আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
এআই প্রযুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে চালকদের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। চালকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকছেন।-ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার
এ অবস্থায় যানবাহনের মালিক ও চালকদের বিআরটিএর নির্ধারিত ডিজাইন, রং ও সাইজের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে স্থাপন এবং আরএফআইডি ট্যাগ কার্যকর আছে কি না তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহ থেকে বিআরটিএর সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
১০ হাজারের বেশি ফুটেজ জমা, মামলা ৫০০
সার্বিক বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের রেসপন্স ভালো পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সব সিগন্যালে বেশিরভাগ চালক আইন মানছেন, এটি পজিটিভ একটি দিক।’
তাদের কাছে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজারের বেশি ফুটেজ জমা হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘এসব ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছে আমাদের টেকনিক্যাল টিম। ইতোমধ্যে ৫শ মামলা পাঠিয়ে দিয়েছি। ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট (টিটিইউ) মূলত এই ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করছে। এই ইউনিটে বর্তমানে জনবল সাতজন। ধীরে ধীরে জনবল বাড়াবো।
এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আগামী সাতদিনের মধ্যে চালক ও মালিকদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ও ডাকযোগে নোটিশ চলে যাবে বলে জানান তিনি।
ক্যামেরার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগে পিটিজেড ক্যামেরা ছিল ৮০টি, নতুন করে বসানো হয়েছে আরও ২৫টি। মোট ১০৫টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।’
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে চালকদের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। চালকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকছেন।’
টিটি/এএসএ/এমএফএ