খাদের কিনারে বাংলাদেশ : নিউইয়র্ক টাইমস


প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বিশৃঙ্খলার শেষ অবস্থায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি উভয়েই দায়ী। এ পরিস্থিতি উত্তরণে এবং সহিংসতা দমনে দুই দলকেই অতিসত্বর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে।

পত্রিকাটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সরকারকে অবশ্যই বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে বলে মনে করছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

`বাংলাদেশ অন দ্য ব্রিংক` বা খাদের কিনারে বাংলাদেশ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ নিবার্চন হয় গত বছর ৫ জানুয়ারি। এই নির্বাচনের আগে থেকেই দেশটিতে সংকট শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে থেকে দেশটিতে চলে আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ফলাফল হিসেবে, নির্বাচনে সরকারপন্থী প্রার্থীরা অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করে। এর ফলে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি থেকে বাদ পড়ে যায় বিএনপি। এরপর তাদের জোটের আরেক দল জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করতে শুরু করে।

পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে আপস না করে শেখ হাসিনা তার বিরোধীদলকে নিষ্ক্রিয় করার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঢাকার দলীয় কার্যালেয় অবরুদ্ধ করে রাখে সরকার।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এরপর খালেদা জিয়া দেশব্যাপী পরিবহন অবরোধ ও সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেন। দলের গুন্ডারা অবরোধ পালনের জন্য জোর করে এবং সহিংস হামলা চালায়। এতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৩ জন মানুষ মারা যায়। অন্যদিকে হাসিনা সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।

যখন সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া দরকার তখন শেখ হাসিনার ‘হার্ড লাইনে’ যাওয়াটা আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে বলে মনে করছে নিউ ইউর্ক টাইমস। বিএনপির অবশ্যই এই সহিংসতার রাশ টেনে ধরতে হবে এবং তাদের মিত্র জামায়াত ও এর রাস্তায় শক্তি প্রদর্শনের কৌশল থেকে দূরে থাকতে হবে। শেখ হাসিনার সরকারকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কার করে এবং বিরোধ দলের সঙ্গে আলোচনা করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে বলে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। তাহলে হয়তো বাংলাদেশে গণতন্ত্রে ভবিষ্যতে ভারসাম্য আসবে এমনটাই মনে করছে নিউইয়র্ক টাইমস।

এএইচ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।