গুলশানে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে ফেটে গেছে গ্যাস লাইন, যান চলাচল বন্ধ
রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির সময় গ্যাস সরবরাহের সংযোগ লাইন ফেটে গেছে। এ কারণে রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলশান থেকে বাড্ডামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কখন নাগাদ ওই লিকেজ মেরামত করা হবে বা যান চলাচল শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্তের কারণে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও আশপাশের এলাকায় রোববার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জানমালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভালভ বন্ধ করে ‘লিকেজ মেরামতের কাজ চলছে’। এতে ওইসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ওই পথে চলাচল করা যাত্রীরা। অন্যদিকে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে মহাখালীর দিক থেকে আসা যানবাহন গুলশান-১ মোড় থেকে গুলশান-২ এর দিকে ডাইভারশন করে দিয়েছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড্ডা লিংক রোডে বেশ কিছুদিন ধরে পানির নতুন লাইনের সংযোগের কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে রোববার সকালে গুলশান-১ এর সিঙ্গারের শোরুমের সামনে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। তখন তিতাসের একটি বড় গ্যাস লাইনের পাইপ ফেটে যায়। মুহূর্তেই গ্যাস লিকেজ হতে থাকে। তখন সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে বাড্ডা থেকে গুলশানের দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলশান থেকে বাড্ডার লেনে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী থেকে গুলশান-১ মোড়ে আসলেই যাত্রীবাহী বাসগুলো গুলশান-২ এর দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ি পুলিশ প্লাজার দিকে যেতে নির্দেশনা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। ফলে যারা বাড্ডা যাবেন, তারা বাস থেকে গুলশান-১ মোড়েই নেমে যাচ্ছেন।
পরে সিঙ্গারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াসার যে যন্ত্রের সাহায্যে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছিল, সেটি দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। গর্তে নেমে পাইপলাইন মেরামতের কাজ করছেন তিতাসের লোকজন। গর্তের চারপাশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। চারপাশে দাঁড়িয়ে তা তদারকি করছেন ওয়াসা ও তিতাসের সংশ্লিষ্টরা।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় বাড্ডা থেকে গুলশান-১ এ যাওয়ার পথে যান চলাচলে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে যে স্থানে গ্যাস লিকেজ হয়েছে, সেখানে বৈশাখী পরিবহনের দুটি বাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ, একই কোম্পানির দুটি বাস বেশি যাত্রী নেওয়ার আশায় পাল্লা দিয়ে গাড়ি টান দেয়। কিন্তু যে স্থানে গ্যাস লিকেজ হয়েছে, সেখানে হলুদ ফিতা বা কাপড় দিয়ে বেড়া দেওয়া থাকায়, একটি বাস আরেকটি বাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় তিতাসের লোকজন দ্রুত দুটি বাসকে দূরে সরিয়ে দেয়, যাতে যানবাহনে আগুন না লাগে।
পরে বিকেল ৫টার দিকেও ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ দেখা গেছে। গুলশানের দিক থেকে শত শত মানুষ হেঁটে বাড্ডার দিকে যাচ্ছেন। অনেককেই গুলশান লেক পাড়ের কাছে গিয়ে রিকশায় উঠে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
জাহাঙ্গীরগেট থেকে বিআরটিসি বাসে করে বাড্ডায় যাচ্ছিলেন আবুল খায়ের। কিন্তু পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ায় গুলশান-১ মোড়ে নেমে যান তিনি। আলাপকালে আবুল খায়ের বলেন, তার বাসটিকে গুলশান-বারিধারা-নতুনবাজারের দিকে যেতে বলেছে পুলিশ। অথচ আমি যাব বাড্ডা। তাই বাস থেকে নেমে পড়েছি। কিন্তু বাসের সহকারী ভাড়ার টাকা ফিরত দিচ্ছে না। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে তর্কও হয়েছে।
মিরপুর থেকে যাত্রী নিয়ে মহাখালী-গুলশান-১ তথা বাড্ডা লিংক রোড হয়ে ডেমরায় যাত্রী পরিবহন করে আলিফ পরিবহন। এই পরিবহনের একটি বাস মহাখালী থেকে গুলশান-১ এ আসার পর গুলশান-২ এর দিকে ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় আলিফ পরিবহনের চালক জয়নাল হোসেন জানান, রাস্তায় কী যেন সমস্যার কারণে গুলশান-২ দিয়ে নতুন বাজার-শাহজাদপুর হয়ে ডেমরা যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এতে দূর ঘুরলে বাসে তো যাত্রী পাওয়া যাবে না। আবার জ্বালানি খরচও বেশি হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জিয়াউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ওয়াসা পানির লাইনের কাজ করতে গিয়ে তিতাসের গ্যাসলাইনের ক্ষতি করেছে। এ কারণে বাড্ডা-লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ। মহাখালীর দিকে থেকে আসা যানবাহনগুলো ডাইভারশন করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে তিতাসের লোকজন গ্যাসলাইন মেরামতে কাজ করছেন। সম্ভবত তাদের কাজ শেষ পর্যায়ে। কাজ শেষ হলে যান চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হবে। অন্যথায় গ্যাস লিকেজ এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
এমএমএ/এমএমকে