পদ্মায় লঞ্চডুবি : ৬৮ মরদেহ হস্তান্তর
১৫ শিশুসহ ৭০ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মোস্তফার উদ্ধার কাজ। এর মধ্যে ৬৮টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে।
নিহতের পরিবারের পারিবারের সদস্যদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে আর্থিক সহযোগিতারও। তবুও স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারি পাটুরিয়ার আকাশ।
পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাট যেন এখন এক মৃত্যুপুরী। চালকের চরম দায়িত্বহীনতা আর খামখেয়ালিপনার বলি হয়ে পদ্মার বুকে ৭০ জনের প্রাণহানির পর স্বজনহারা মানুষগুলো প্রশ্ন তুলেছেন নৌ-দুর্ঘটনায় আর কতো মানুষের মৃত্যু হলে টনক নড়বে এসব চালক আর মালিকের।
রোববার দুপুরে লঞ্চ ডুবির পর থেকে উদ্ধার কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় স্বজনহারা বহু মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন পাটুরিয়া ঘাটে। তাদের একজন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির পরেশ পাল। লঞ্চে থাকা তার ছয় স্বজনের বেঁচে ফিরেছেন মাত্র একজন।
বাকি পাঁচজনকেই বরণ করতে হয়েছে পদ্মার অতল জলরশির নিচে হিম শীতল মৃত্যু। স্বজনহারা অসংখ্য মানুষের ভিড়ে আলাদা করে চোখে পড়ে মিল্টন নামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে। ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী হয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন ঢাকায়। কিন্তু সর্বনাশা লঞ্চডুবিতে আড়াই বছরের সন্তানকে বাঁচাতে পারলেও বাঁচাতে পারেননি স্ত্রীকে।
সোমবার সকালে উদ্ধার অভিযান প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও শেষ মৃতদেহ না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চলবে বলে জানান মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক। এছাড়া দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।
সোমবার ভোর সোয়া ৪টায় লঞ্চটিকে তীরে আনার পর লঞ্চের পরতে পরতে চোখে পড়ে যেন একেকটি জীবনের গল্প। পানিতে ডুবে, ভিন্ন নাম ভিন্ন পরিচয়ের একেকজন জীবন্ত মানুষ পরিণত হয়েছেন লাশে।
অথচ লঞ্চের ভেতর থেকে যাত্রীদের ব্যাগ লাগেজ দেখে অনেকেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল মানুষগুলো ফিরবেন না আর কখনোই।
## উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা, মৃতদেহ ৭০
## পদ্মায় লঞ্চডুবি : নিহত ২৮ জনের পরিচয় মিলেছে
বিএ/এমএস