সাতদিন কমছে গ্রীষ্মের ছুটি


প্রকাশিত: ০৫:২৬ এএম, ১১ মে ২০১৫

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে টানা ৯২ দিনের হরতাল ও অবরোধের ফলে শিক্ষাখাতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি ৭দিন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এই সময় ক্ষতি পুষিয়ে তারা অতিরিক্ত ক্লাস নেবেন। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান কেবল শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এবং যারা অবরোধের সময় ছুটির দিনে ক্লাস নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন তারা গ্রীষ্মকালীন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। আর স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কলেজগুলো চলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী।

অবরোধে শিক্ষার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  উক্ত বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব এএস মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, যুগ্মসচিব জাকির হোসেন ভূইঞা, রুহী রহমান, বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৮ জন অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক বক্তৃতা করেন। এদের মধ্যে দুএকজন ছাড়া বেশির ভাগই বলেছেন হরতালে তাদের প্রতিষ্ঠানে তেমন প্রভাব পড়েনি। ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন তারা। নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ যেসব এলাকায় কড়া কর্মসূচি পালিত হয়েছে সেসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও বলেছেন অল্প ক্ষতির কথা। এমনকি দুজন আগ বাড়িয়ে বলেছেন, অবরোধ-হরতালের গন্ধও পাননি তারা। আর যেটুকু প্রভাব পড়েছিল, সেটুকু তারা শুক্র-শনিবার ক্লাস নিয়ে অনেকটাই পুষিয়ে ফেলেছেন। এরপরও মন্ত্রণালয় গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বা রমজানে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত দিলে তা তারা পালন করবেন। মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরা যখন এমন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মন্ত্রণালয় ও মাউশির একাধিক কর্মকর্তা এ নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন।

এসময় মাউশির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ঘাড়ে মাথা কয়টা যে নেতিবাচক বক্তব্য দেবে, চাকরি বাঁচাতে হবে না? বৈঠক শেষে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা এমন বক্তব্য আশা করিনি। কিন্তু বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। শিক্ষকরা হয়তো ছুটি ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হতে চাচ্ছেন না। জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক) রুহী রহমান বলেন, আমরা আগেই বলেছি যে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেব না। তাই রেখেছি। তবে আমাদের ধারণা ছিল গ্রীষ্মকালীন ছুটি ৭ দিন কমাতে হবে। যেহেতু সবার ক্ষতি সমান হয়নি, তাই ছুটিটা বাধ্যতামূলক না করে যার প্রয়োজন তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে গত ১ মে থেকে কলেজে এবং ১৪ মে থেকে মাধ্যমিক ও নিুমাধ্যমিক স্কুলে (সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল-কলেজে) গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কলেজে অঘোষিতভাবে এ ছুটি বাতিল হয়ে গেছে। তারা আসন্ন রমজানেও নিজস্ব রুটিন অনুসারে ক্লাস নেবে। যদিও স্কুলে রমজানের ছুটি বাতিল হচ্ছে না। এ সময় কেউ ক্লাস চালু রাখলেও তাদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি থাকবে না মাউশি বা শিক্ষা বোর্ডের। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোর ওপর অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দেন। তবে এজন্য অর্থ আদায় করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারিও দেন তিনি।

জেআর/এআরএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।