এক বছর আগের পরিকল্পনায় অপহৃত হয় আবির


প্রকাশিত: ০৪:৩৯ পিএম, ১৭ মে ২০১৫

রাজধানীর টিএনজি গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক শাহাদাত হোসেন শামীমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা এক বছর আগে করে অপহরণকারীরা। পরে পরিকলল্পনা বদলে তার ছেলে আবিরকে অপহরণ করে ১০ কোটি টাকা দাবি করে তারা।

শুধু তাই নয় টাকা না পেলে ছেলে আবিরকে খুন করা হবে বলে বাবা শামীমকে হুমকি দেয়া হয়। পরে বাধ্য হয়েই ২ কোটি টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন তিনি। তবে টাকা উত্তোলনের পর র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে অপহরণকারী চক্রটির ৫ সদস্য। একইসঙ্গে মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা এক কোটি ৭৪ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়।

রোববার রাজধানীর উত্তরার কসাইবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪), রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), জহির উদ্দিন মো. বাবর (৩৭) ও শাহ মো. অলিউল্যা (৩৭)।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, গত ২ মে রাজধানীর ক্যান্টনম্যান্ট থানার বনানী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে অপহৃত হয় আবির। অপহরণকারীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দেয়া হলে ৬ মে আবিরকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

তিনি আরো জানান, অপহরণের মূল হোতা মিজানুর রহমান মিজান। তিনি টিএনজি গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক শাহাদাত হোসেন শামীমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। টিএনজি গ্রুপ অব কোম্পানির জিএম-এর ড্রাইভার রেজাউল এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান নজরুলকে সাথে নিয়ে এ পরিকল্পনা করেন মিজান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা শিল্পপতি শামীমের ছেলে আবিরকে অপহরণ করে লুকিয়ে রাখার জন্য মিরপুরের পল্লবী এলাকায় একটি বাসাও ভাড়া নেন।

মুফতি মাহমুদ আরো জানান, মিজান ও তার সহযোগীরা নিয়মিত আবিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। উত্তরায় আবির যে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে সেখানেও নজরদারি চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে তারা।

গত ২ মে সকাল থেকে অপহরণের সাথে সম্পৃক্ত ১২-১৪ জন তিনটি দলে ভাগ হয়ে আবিরকে অনুসরণ করতে শুরু করে। নোয়া প্রাইভেটকারে একটি গ্রুপ ক্যান্টনমেন্ট স্টাফ রোড এলাকায় অবস্থান নেয়। ঐ দিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শামীম বনানী ফ্লাইওভার এর নীচে পৌঁছালে মিজানসহ তার সহযোগীরা প্রাইভেটকারটি আটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আবিরকে ও ড্রাইভার রেজাউলকে নোয়া মাইক্রোতে ওঠায় এবং ভিকটিম এর গাড়িটি অপহরণকারী একজন ৩০০ ফিট রাস্তার দিকে নিয়ে চলে যায়।

গাড়িটি পরিত্যক্ত রেখে অপহরণকারীরা আবিরসহ অন্য ২ জনকে নিয়ে পল্লবীর দিকে রওয়ানা হয় এবং ভিকটিমের ড্রাইভার এবং সাথে থাকা অপর জনকে এয়ারপোর্ট এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

পরবর্তীতে মিজান এবং তার সহযোগীরা শাহাদত হোসেন শামীম এর সাথে ফোনের মাধ্যমে তার ছেলেকে অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করে ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

মুক্তিপণের টাকা না দিলে তার ছেলেকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। শামীম ১০ কোটি টাকা দিতে অসমর্থ বলে ফোনের মাধ্যমে অপহরণকারীদেরকে জানান। শেষপর্যন্ত কথাচালাচালির একপর্যায়ে ২ কোটি টাকা দেবেন মর্মে অপহরণকারীদের সাথে শামীমের সমঝোতা হয়।

পরবর্তীতে চুক্তি মোতাবেক মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর গত ৬ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে হোটেল র‍্যাডিসন এর সামনে একটি সিএনজিতে করে আবিরকে বাবা শাহাদত হোসেন শামীম এর কাছে হস্তান্তর করে নগদ ২৭ লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যান মিজান।

পরে র‌্যাব তথ্য সংগ্রহ করে অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার ও প্রধান কর্মকর্তা আরো জানান, এ ঘটনায় জড়িত আরও ৬ জন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন, মন্টু, কাওসার, শুভ, সজীব, আব্দুল্লাহ ও চন্দন। তাদের গ্রেফতারেও র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

জেইউ/এসএইচএস/আরএস/এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।