গড়াডোবা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ, আতঙ্কে কৃষক
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার গড়াডোবা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় হাওরপারের বোরো চাষিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে বড়কাপন ইউনিয়নের কামাউড়া স্লুইসগেট–সংলগ্ন অংশে এই ভাঙন দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। পরে মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের পানিতে ভাঙনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে বাঁধটি পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ ঘটনায় হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকের দাবি, এখনো হাওরের কিছু অংশে ধান কাটা শেষ হয়নি। এ অবস্থায় পানি আরও বাড়লে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেশবপুর গ্রামের কৃষক আবদুল হেকিম বলেন, সারা বছরের ভরসা এ বোরো ফসল। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতি হবে।

আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, বিকেল থেকে মানুষজন মাটি ও বালুর বস্তা ফেলছে। কিন্তু পানির চাপ অনেক বেশি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাওরের ধান রক্ষা করা কঠিন হবে।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিসাইল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, বড়কাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় লোকজন দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিবছরই হাওরের বাঁধ সংস্কারে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এর আগেও একই এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, কৃষকের ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন অবশ্য হাওরে ফসল নেই, কাটা হয়ে গেছে। হাওরের ফসল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আগামী বছর আরও উঁচু বাঁধ প্রয়োজন, তা করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া হাওরের ফসল কাটা শেষ পর্যায়ে।
এইচ এম কামাল/কেএইচকে/জেআইএম