বায়োপসির জন্য অপারেশন থিয়েটারে মুক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪০ এএম, ০৫ আগস্ট ২০১৭

বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তার হাতের রোগটি শনাক্তে বায়োপসি করাতে তাকে অপারেশন থিয়েটরে (ওটি) নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টার কিছু আগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তিনতলার অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

মুক্তার ডান হাতের ঘাঁ থেকে কিছু অংশ কেটে পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মুক্তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, মুক্তাকে ৮টার সময় ওটিতে নেওয়ার কথা থাকলেও কিছুক্ষণ আগেই ভেতরে নেওয়া হয়েছে। তবে এ সময় মুক্তা স্বাভাবিক ছিল বলে জানান।

গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জাগো নিউজকে বলেন, মুক্তার আগেই বায়োপসি করার প্রয়োজন ছিল। তবে তার রক্তের প্লেটলেট বারবার কমে যাওয়ার কারণে বায়োপসি প্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছিল।

মুক্তার চিকিৎসার জন্য গঠিত বোর্ডের প্রধান ও ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, মুক্তার এই ঘাঁ শুধু চামড়ায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মাংসে ছড়িয়ে যেতে পারে। আমরা বায়োপসির মাধ্যমে ঘাঁ থেকে মাংস নিয়ে পরীক্ষা করব।

তিনি জানান, বায়োপসি এক ধরনের সার্জারি। এটি চিকিৎসার একটি ধাপ। এই চিকিৎসা একটি অপারেশনে শেষ হবে না। ছয় থেকে সাতটি অপারেশন লাগবে। তার শরীর স্বাভাবিক রেখেই কিছু অপারেশনের মাধ্যমে মাংস ও চামড়া প্রতিস্থাপন করা হবে। মুক্তার চিকিৎসার ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বলেও জানান।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ৯ জুলাই জাগো নিউজে ‘লুকিয়ে রাখতে হয় মুক্তাকে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুক্তার চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তার যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।

এরইমধ্যে মুক্তার চিকিৎসার জন্য একটি বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।

এআর/এসআর/এমএস