তিস্তায় ম্লান মোদির সফর


প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ০৬ জুন ২০১৫

আবেগ, ভালোবাসা আর সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন ঢাকায়। তার দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের প্রথম দিন সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে মোদি-মমতার সফরেও বাংলাদেশ পাচ্ছে না তিস্তার পানি। ফলে অনেকটাই ম্লান নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক ঢাকা সফর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জাগো নিউজকে বলেন,‘নরেন্দ্র মোদির সফর এই সময়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তার সমস্যা সমাধান আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হলে নরেন্দ্র মোদির এই সফর আরো অর্থবহ হতো। তবে এই সফরে তিস্তা চুক্তি যে হচ্ছে না, তা আগেই ধারণা করা যাচ্ছিল। আমি মনে করি, তিস্তার পানি নিয়ে হতাশার কিছু নেই। অন্যান্য বিষয়ের মতো অতিদ্রুতই তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে।’

তবে নরেন্দ্র মোদির সফরকে দৃশ্যত ‘চমকহীন’ মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি হলেই এই সফর বাংলাদেশের জন্য চমক হতো। বিশেষ কোনো কারণেই তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না, তা এখন পরিষ্কার। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি এখনও বাংলাদেশের রাজনীতি, বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কিছু বলেননি। সফরের শেষ দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে নরেন্দ্র মোদি কি বলেন, তাই এখন দেখার বিষয়।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফর নানা কারণেই ঐতিহাসিক এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সফরের আগে ভারতীয় পার্লামেন্টে সীমান্ত বিল পাস করে বাংলাদেশকে বিশেষ উপহার দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদির ঐকান্তিক চেষ্টার কারণেই সীমান্ত বিল পাস হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তার এই সফরকে বাংলাদেশ এবং ভারতের গণ্যমাধ্যমেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ছিটমহল সমস্যা সমাধানের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিট এবং তিস্তার পানি চুক্তি এ দুটি বিষয় নরেন্দ্র মোদির সফরে গুরুত্ব পাচ্ছিল।

ট্রানজিটে ফল পেলেও বাংলাদেশ আপাতত তিস্তার পানি পাচ্ছে না। মোদি তার সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানর্জির মন গলিয়ে, তাকে সফর সঙ্গী করতে পারলেও তিস্তার পানি যেন বরফই রয়ে গেল। এ যাত্রায় তিস্তার বরফ গলাতে পারছেন না নরেন্দ্র মোদি। তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিস্তার পানি নিয়ে বড় জোর সান্তনার আলাপ হতে পারে, কিন্তু অনিশ্চয়তা যে কাটছে না, তা দু’দেশের পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্যেই প্রতীয়মান হয়েছে।

গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ‘আজ হোক, কাল হোক এই চুক্তিও হবে।’ তার মানে গওহর রিজভীর ‘আজ-কাল’ ভবিষ্যতকেই নির্দেশ করছে।

একই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘তিস্তা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা ও কথা বার্তা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

এর আগে বাংলাদেশ সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানর্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, ‘তিস্তা চুক্তি করতে তিনি আন্তরিক’। ঢাকা থেকে দেশে ফিরে তিস্তা নিয়ে মমতা তার মনোভাবের কথা চিঠিতে জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও।

তিস্তার পানি প্রবাহ নিয়ে ১৯৫২ সাল থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটা দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক চুক্তিও সই হয়েছিল ২০১১ সালে। সেখানে বলা আছে, ভারত এবং বাংলাদেশ নদী ও অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলবে। প্রতিটি নদীর জন্য আলাদা হিসাব-নিকাশ করতে হবে। এখন পর্যন্ত তিস্তার হিসাব আটকে আছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাতেই। সুতরাং তিস্তার পানির সমস্যা যতটা না কারিগরি, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক।

তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি সংযুক্ত হলে নরেন্দ্র মোদির সফর যে পূর্ণতা পেত, এটি বলার অপেক্ষা থাকে না। তিস্তা চুক্তি যে এই সফরে হবে না, তা অবশ্যই আগেই জানা ছিল। মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের বিশেষ বোঝাপড়ার কারণেই তিস্তা চুক্তি আটকে আছে। তবে তিস্তার সঙ্কট দ্রুতই কেটে যাবে বলে আমি মনে করছি’।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি নরেন্দ্র মোদির এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছি। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পেয়েছে। তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হলে মোদির সফর আরো ফলপ্রসূ হতো। তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট। এই সঙ্কট উত্তোরণে পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এটিই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের আরো কিছু সংবাদ-

## বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের মানচিত্র
## কথা রাখলেন না মমতা, ছাড়লেন ঢাকা
## মোদির সম্মানে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা (দেখুন ছবিতে)
## মোদির সঙ্গে ঢাকায় মমতা : কটাক্ষ রাহুলের
## স্থলসীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকলের দলিল বিনিময়
## বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট চলাকালে ফতুল্লায় মাদ্রাসা বন্ধ রাখার নির্দেশ
## বাংলাদেশ-ভারত ২২ দফা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই
## মোদির খাবার তালিকায় যা থাকছে
## সাম্প্রদায়িক বৈষম্য মানবেন না মোদি
## বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরুই মোদির লক্ষ্য
## বাংলাদেশ সফর নিয়ে টুইটারে মোদির উচ্ছ্বাস
## ঢাকায় মোদি (ভিডিও)


এএসএস/এসএসএইচ/একে/আরএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]