মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধ পাচার রোধে বিল সংসদে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধ পাচার রোধে বিল সংসদে

মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ব্যবহার বন্ধ এবং অবৈধ পাচার রোধকল্পে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন (সংশোধনী) আইন ২০১৭ বিল সংসদে উত্থপিত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। পরে বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ব্যতীত মানবদেহে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে। যে কোনো সুস্থ্য ও জীবিত ব্যক্তি জীবন যাপনে ব্যঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে তার নিকট আত্মীয়র দেহে প্রতিস্থাপনের জন্য নিজ অঙ্গ দান করতে পারবেন। এছাড়া কেউ জীবিত অবস্থায় অঙ্গ-প্রতঙ্গ দান করলে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার উত্তরাধিকারীর লিখিত অনুমতি সাপেক্ষ তা করা যাবে। দুই বছরের কম বা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তির অঙ্গ-প্রতঙ্গ নেয়া যাবে না।

এই বিলের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হলে হাসপাতাল পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল প্রসিডিউর প্রযোজ্য হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বা প্রতিস্থাপন চিকিৎসার প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন প্রণনয়ন করা হয়। আইনটি সংশোধনক্রমে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রসমুহ বিস্তৃতকরণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ব্যবহার বন্ধ এবং অবৈধ পাচার রোধ কল্পে মানবদেহে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন (সংশোধনী) আইন ২০১৭ বিল সংসদে উত্থপিত হয়েছে।

এইচএস/এএইচ/এমএস