বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পরিমাণ ১০ হাজার ১৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমেদ কায়কাউস সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য জানানো হয়।

মঙ্গলবার রাত ১১টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১৩৭ মেগাওয়াট, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর আগে গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ১২ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী বুধবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।

সরকারের বিদ্যুৎ উপাদনের লক্ষ্য আরও উপরে জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘গত বছর অক্টোবরে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৫০৭ মেগাওয়াট, অর্থাৎ আমরা ইতোমধ্যে আরও ৫০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের সক্ষমতার যে নির্ণায়ক বা পরিচায়ক সেটা এখনও ঘটেনি। আমরা ন্যূনতম ১১ হাজার মেগাওয়াট বা এর বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারব।’

‘আমরা প্রতি মাসে তিন থেকে সাড়ে ৩ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাধ্যমে, এছাড়া শহরাঞ্চলে অন্যান্য কোম্পানির মাধ্যমে। ফলে আমাদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মাসে ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমাদের চাহিদা কমেছিল, আরেক দিকে (বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে) উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।’

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার পর্যায়ক্রমে সরবরাহ ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে জানিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘এখন অনেকে বলেন গ্রামে ঠিক ওভাবে সরবরাহটা আসছে না। কেন আসছে না, এরও একটা ব্যাখ্যা আমি দেই। সেটি হচ্ছে- আপনাকে যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয় তাহলে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড লাইন তৈরি করতে হবে। আমরা লাইনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড করে যাচ্ছি, একই সঙ্গে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়ে যাচ্ছি।’

‘অপশন কিন্ত দুটি- একটি হচ্ছে আপনার বাসায় কুপি বাতি জ্বলবে আমি লাইনটি স্ট্যান্ডার্ড করব, তারপর আপনাদের দেব। আর আরেকটি হচ্ছে- এখন আপনি কুপিবাতির সঙ্গে ৫-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎও চালাতে পারবেন। মাঝে মাঝে হয়তো বাধাগ্রস্ত হবে। আমি মনে করি দ্বিতীয় অপশনটাই ভালো, পর্যায়ক্রমে আমরা আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন কাজগুলো করে যাচ্ছি।’

আহমেদ কায়কাউস আরও বলেন, ‘সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে শুধুমাত্র পল্লী বিদ্যুতের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য ডিস্ট্রিবিউশন লাইন উন্নয়ন করা হচ্ছে।’

আগামী মাসে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘জুন মাসে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। সব মিলিয়ে জুনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আরও ২ হাজার মেগাওয়াট বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আরও একটি সুখবর হলো এলএনজি জাহাজ বাংলাদেশের উপকূলে এসে গেছে। এখন গ্যাসের অভাবে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালাতে পারছি না সেগুলো চালাতে পারব। অর্থাৎ আমাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য উৎপাদন সক্ষমতা ইনশাআল্লাহ আমরা তৈরি করতে পারব।’

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘আমাদের হিসাবে গত ১৫-২০ দিন আমরা কোন লোডশেডিং দেইনি। ফোর্স লোডশেডিং হয়নি, যেটা হয়েছে সেটা ইন্টার‌্যাপশন।’

আগামী রমজান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে বলেও নিশ্চয়তা দেন সচিব।

পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট। গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৮৭ লাখ। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া জনগোষ্ঠী ৯০ শতাংশ।

দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদন করবে।

আরএমএম/জেএইচ/এমআরএম/আরআইপি/জেআইএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :