বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তির প্রস্তুতি মালয়েশিয়ার

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৮ | আপডেট: ০৪:৪৫ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৮

বাংলাদেশ সঙ্গে দুটি বিষয়ে সমঝোতাস্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া। বিষয় দুটি হলো- প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা।

এ বিষয়ে জানাতে ঢাকায় সফররত মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সাবু বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে এক বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সফররত মালয়েশীয় মন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়।

ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত নেয়ার বিষয়ে মিয়ারমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তার সরকার একটি দ্বীপের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। যেখানে তাদের স্থানান্তর করা হবে।

মালয়েশীয়মন্ত্রী বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বলেন, তার দেশ এই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

PM-Malaysia-1

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সাবুকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী উপহার দেন শেখ হাসিনা

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মাহাথির মোহাম্মদকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। মালয়শীয় সংসদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য ও মাহাথির মোহাম্মদের মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করায় মোহাম্মদ বিন সাবুকেও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মালয়েশীয় মন্ত্রী এ সময় দু’দেশের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার ভাতৃপ্রতীম সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও ঘনিষ্ট হবার বিষয়ে একমত পোষণ করেন তারা।

শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সম্পদশালী দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তার মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

মালয়েশীয়মন্ত্রীকে দেশের কৃষিখাতে উন্নয়নের বিষয়ে জানান প্রধানমন্ত্রী। লবণাক্ততা ও ক্ষরাসহিষ্ণু ধান উৎপাদনের সাফল্য এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি তোলে ধরেন তিনি।

বৃহত্তর মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভাতৃঘাতী সংঘাত খুব দুর্ভাগ্যজনক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশংসা করে মোহাম্মদ বিন সাবু বলেন, ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচএস/জেডএ/পিআর