ফলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিন্ন তারিখে উদ্বোধন করলেন এসপি!

সায়ীদ আলমগীর সায়ীদ আলমগীর কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উদ্বোধক হিসেবে ফলকে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম। তারিখ রয়েছে ১৭ আগস্ট ২০১৮। কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) অনাড়ম্বরভাবে তা উদ্বোধন করলেন ইতোমধ্যে বদলির আদেশ পাওয়া পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন।

শনিবার দুপুরে নিরাপদ পর্যটনের স্বার্থে শহরের অর্ধশত স্পটে বসানো ৬৭ সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে ‘কক্সবাজারের সিসিটিভি মনিটারিং কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টার’ উদ্বোধনের পর এমন চিত্র চোখে পড়েছে। অনেকে বলছেন, বদলির আদেশ কার্যকর করার পূর্বে তাড়াহুড়ায় কার্যক্রমটি উদ্বোধন করে উদ্যোগে নিজ সম্পৃক্ততা পাকাপোক্ত করেছেন তিনি।

cox

অবশ্য বৈচিত্র্যময় এ উদ্বোধনের জবাব দিয়েছেন বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা পুলিশ সুপার। ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেছেন, প্রথমে তিন আগস্ট এ সিস্টেম উদ্বোধন করার কথাছিল। কিন্তু সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিল হওয়ায় তা হয়ে ওঠেনি। পুনরায় ১৭ আগস্ট সময় দেয়ায় সেভাবেই সবকিছু সম্পন্ন করা হয়। সেটাও নিশ্চিত না হওয়ায় মন্ত্রীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র এবং দাতা সহযোগী ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশত পয়েন্টে ৬৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দিবারাত্রি চব্বিশ ঘণ্টা এসব ক্যামেরা চলমান থেকে ধারণ করছে শহরের চলমান চিত্র। আর জেলা পুলিশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমে বসেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পুরো শহরটি।

cox-2

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, পর্যটকের ছিনিয়ে নেয়া মালামাল উদ্ধারে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্য প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ছিনতাইকারীদের হাতে একইভাবে নিহত হন বেশ কজন পর্যটকও। এসব অপরাধজনক ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ পর্যটন বিকাশে কক্সবাজারকে অপরাধমুক্ত রাখার পরিকল্পনায় এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। সরকারি তহবিলের কোনো অর্থ ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পটির ফান্ড সম্পর্কে আরও জানানো হয়, নানা পেশার লোকজনের সঙ্গে মত বিনিময়ের পর এ প্রকল্পে এগিয়ে আসে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশন-ইউএনএইচসিআর, কক্সবাজারের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, কক্সবাজার পৌরসভা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে শুরু করে শহরের ব্যবসায়ীরাও। ইউএনএইচসিআর ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের অত্যাধুনিক বিশাল পর্দাটির (স্ক্রিন) ব্যবস্থা করে দেয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুল ইসলাম জানান, সৈকত তীর, বাস টার্মিনাল ও শহরের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কলাতলি বঙ্গবন্ধু চত্বর (ডলফিন পয়েন্ট) সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ অপরাধপ্রবণ অর্ধশত স্থানে ৬৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বসানো ক্যামেরাগুলো প্রতিনিয়ত ঘূর্ণায়মান অবস্থায় সব ধারণ করছে। চব্বিশ ঘণ্টা এটি পর্যবেক্ষণ করা হয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসেই। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী পুলিশ সদস্যরা দিনে আর পুরুষরা রাতে এটি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

cox-4

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, ইউএনএইচসিআর এর সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার এলিজাভেথ মার্কার, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদারসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিসিটিভির কার্যক্রম শুরু হবার পর থেকে ইতোমধ্যে ভালো ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে। অপরাধ ধরা পড়ার ভয়ে শহরের কমে গেছে অপরাধজনক ঘটনা। এটি চলমান রাখা গেলে কক্সবাজার হবে অপরাধমুক্ত পর্যটন নগরী।

উল্লেখ্য, একটি ইয়াবা কেলেঙ্কারিতে এসপি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আসার পর বাকিরা ইতোমধ্যে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সম্প্রতি ট্যুুরিস্ট পুলিশে বদলির আদেশ পেয়েছেন ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার এ বি এম মাসুদ হোসেন। বিদায় নেয়ার আগে নিজের দৃশ্যমান কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর

আপনার মতামত লিখুন :