‘মামা, সিট খালি আছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১২ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

‘খিলগাঁও, বাসাবো, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী-মামা কই যাইবেন? সিট খালি আছে। আসেন মামা আসেন, যেখানেই যাবেন সিট খালি আছে।’ রোববার সকালে রামপুরা কাঁচাবাজার বাসস্টপেজ থেকে এভাবেই যাত্রীদের ডাকছিলেন তুরাগ পরিবহনের হেলপার শহিদুল।

শুধু রামপুরা-যাত্রাবাড়ী রুটে নয়; ঢাকা শহরের প্রতিটি রুটে সকাল ১০টা পর্যন্ত যাত্রী ও গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম দেখা গেছে। কোনো অঞ্চলে যানজটের চিত্র চোখে পড়েনি। এমনকি পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠান কেন্দ্র রমনা পার্কের আশপাশের রাস্তাগুলোতেও কোনো যানজটের চিত্র দেখা যায়নি।

Road

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে রাজধানীবাসীর অনেকেই শহর ছেড়ে প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে ছুটে গেছেন গ্রামে। আবার কেউ কেউ নিয়েছেন অতিরিক্ত ছুটি। ফলে ঈদের মতো অনেকটাই লম্বা ছুটি মিলে গেছে। যে কারণে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে যান্ত্রিক নগরী ঢাকা।

হাঁকডাক দিয়ে যাত্রী না পাওয়ার বিষয়ে তুরাগ পরিবহনের হেলপার শহিদুল বলেন, ‘টানা ছুটিতে ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। যাত্রী একেবারেই নেই। বাসের অর্ধেক সিট খালি। হাঁকডাক দিয়েও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় মানুষও কম।’

তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় গাড়িতে আছি। এর আগে কখনো পহেলা বৈশাখে এত কম যাত্রী দেখিনি। এয়ারপোর্ট- যাত্রাবাড়ী রুটে সাধারণত বৈশাখের সময় যানজট কম হয়। কিন্তু রাস্তা এত ফাঁকা থাকে না। আমরা আশা করছি দুপুরের দিক থেকে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা বাড়বে।’

এদিকে রাস্তা ফাঁকা থাকা এবং সহজে গণপরিবহনে উঠতে পারা ঘর ছেড়ে বের হওয়া মানুষগুলোর মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। অনেকে বেশ উপভোগও করছেন এমন দৃশ্য। কেউ কেউ ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় চড়ে প্রেয়সীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

Road

এমনই একজন খাইরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি তাদের জন্য এমন দৃশ্য সচরাচর পাওয়া যায় না। ঢাকার রাস্তা ফাঁকা থাকে না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঘুরতে বের হয়ে রাস্তায় এমন দৃশ্য দেখতে পেলাম। তাই ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় চড়ে একটু ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা হলো। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই আমরা দু’জন রিকশায় উঠে পড়লাম। ইচ্ছা আছে ঘণ্টা দেড়-দুই রিকশায় করে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াব।’

যাত্রাবাড়ী থেকে রমনা পার্কে আসা ফৌজিয়া বলেন, ‘এর আগেও সকালে রমনা পার্কে এসেছি। কিন্তু রাস্তায় এত ফাঁকা দেখিনি। গত বছরও পল্টন থেকে গাড়ি হালকা যানজটে পড়েছিল।তবে আজ গাড়ি কোনো সিগন্যালে ব্রেক করেনি। এক টানে চলে এসেছে। তবে ভাড়া একটু বেশি নিয়েছে।’

ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানো বেশ উপভোগ করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। এনামুল নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘ঢাকার রাস্তা এমন ফাঁকা হবে কল্পনাও করা যায় না। এমন ফাঁকা রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানোর আনন্দই আলাদা। ঢাকার রাস্তা যদি সবসময় এমন ফাঁকা থাকত তাহলে হয়তো রাজধানীবাসীর খুশির সীমা থাকত না।’

এমএএস/এসআর/এমএস