পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বন্যপ্রাণী মিলিয়ে দেখতে চিড়িয়াখানায় অন্বেষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯
চিড়িয়াখানায় পশু-পাখি দেখার এক পর্যায়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বিশ্রাম নিচ্ছে অন্বেষা (ডান দিক থেকে তৃতীয়)

পাঠ্যবইয়ের পড়ায় অনেক বন্য পশু-পাখি দেখেছে শিশু অন্বেষা। ঈদের দ্বিতীয় দিনে পরিবারের সঙ্গে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় এসে বাস্তবে সেসব বন্যপ্রাণী মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছে সে। পাঠ্যবইয়ের বন্যপ্রাণীদের বাস্তবে দেখে ঈদ আনন্দ তার অনেক বেড়ে গেছে। সন্তানের খুশিতে পরিবারের সবাই যেন আনন্দিত।

অন্বেষার মতো অনেক শিশু পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে এসেছে চিড়িয়াখানায়। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকায় প্রত্যাশার চাইতে কিছুটা কম দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে এখানে।

ঢাকার নর্দ্দায় থাকে অন্বেষা ও তার পরিবার। একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ঈদের দ্বিতীয় দিন পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার চিড়িয়াখায় বেড়াতে এসেছে। সকাল ১০টায় এসে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিবারের সকলে চিড়িয়াখানার মধ্যে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রাণী দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, এ কারণে বাড়ি ফেরার আগে চিড়িয়াখানার ভেতরে একটি বসার স্থানে সবাই বিশ্রাম করছিলেন।

Zoo-1

এ সময় অন্বেষা এ প্রতিবেদককে বলে, ‘বইয়ের পড়ায় অনেক প্রাণী দেখেছি, আজ বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লেগেছে, অনেক আনন্দ পেয়েছি।’ তার ভালো লাগার মধ্যে, কুমির, বানর, হরিণ, হাতী, জেব্রাসহ বেশকিছু প্রাণির নাম উল্লেখ করে সে। স্কুল ছুটি পেলে আবারও চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসবে বলে জানায় অন্বেষা।

অন্বেষার বাবা ইমতিয়াজ হায়দার বলেন, ‘চাকরি করায় তেমন সময় হয় না সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার। এ ছাড়া বাসা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় আগে সন্তানদের নিয়ে আসা হয়নি এখানে। ঈদের ছুটিতে তাই পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছি।’

Zoo-1

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমি একাধিকবার এখানে এসেছি, কিন্তু আগের চেয়ে চিড়িয়াখানার ভেতরে পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো হলেও প্রাণীর অবস্থান-সংক্রান্ত পর্যাপ্ত গাইডলাইন না থাকায় কোথায় কোন প্রাণী রয়েছে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। এ কারণে ছোট শিশুদের নিয়ে অনেক বেশি হাঁটাহাঁটি করতে হয়।’ এজন্য প্রাণীর অবস্থানের নির্দেশিকা বাড়ানোর দাবি জানান এই অভিভাবক।

সুরাইত আক্তার ইসরাত বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে জাতীয় চিড়িয়াখানায় এসেছিল, এবার ঈদের ছুটিতে আবারও চিড়িয়াখানায় এসেছে। বেলা ১১টায় এসে কিছু প্রাণী দেখার পর ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে পরিবারের সঙ্গে বসে বিশ্রাম করতে দেখা গেল তাকে।

চিড়িয়াখানায় কেন এসেছ- জানতে চাইলে সুরাইত বলে, ‘বইয়ের পড়ায় বাঘ, ভাল্লুক দেখেছি, এখন বাস্তবে দেখতে আব্বু-আম্মুর সঙ্গে বেড়াতে এসেছি; বানর, হরিণ, কুমির দেখেছি। বিশ্রাম নিয়ে বাঘ দেখতে যাব।’

Zoo-1

শুধু ছোটরাই নয়, বড়রাও ঈদ বিনোদনে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তবে দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় চিড়িয়াখানার ভেতরে-বাইরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বাঁধভাঙা মনের বিনোদন কুড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে চিড়িয়াখানায় ঈদ বিনোদনে বেড়াতে এসেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর দুই ছাত্রী সায়মা ও মিতু বেড়াতে এসেছেন চিড়িয়াখানায়। ঈদে বাড়তি বিনোদন পেতে তারা দুপুর ১২টায় চিড়িয়াখানায় আসেন। ভেতরে ঘুরে ঘুরে অনেক প্রাণী দেখে তা উপভোগ করতে দেখা যায় তাদের।

Zoo-1

সায়মা ও মিতু বলেন, ‘বর্তমানে শুধু ভিডিওতে পরিচিত এসব প্রাণী দেখা হয়, তবে এ সব প্রাণী সম্পর্কে জানতে সবার চিড়িয়াখানায় আসা উচিত। এখানে এলে অনেক ভালো লাগে। আগেও অনেকবার এসেছি, ঈদের ছুটিতে আবারও এলাম।’

তারা বলেন, শেডের মধ্যে থাকা সব প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত দেয়া নেই। এ ছাড়া কোথায় কোনো প্রাণী রয়েছে সে সম্পর্কেও কোনো নির্দেশনা নেই। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

এমএইচএম/এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :