ঈদের পর জালনোটের বড় কারবারের টার্গেট ছিল তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০

রাজধানীর পল্টন থানাধীন বিএনপি পার্টি অফিসের পাশের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে জালনোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

১৪ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর পুরানা পল্টনের ২৫/২ নম্বর ভবনের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে গুলশান বিভাগ ডিবি পুলিশের একটি দল।

আটকরা হলেন- কারখানার অর্থদাতা শাহিন, হান্নান, কাওসার, আরিফ, ইব্রাহিম ও নারী সদস্য খুশি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান বলেন, ওই ভবনের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা থেকে প্রায় ৫/৬ কোটি টাকার জালনোট তৈরির মতো কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এই সঙ্গে তৈরিকৃত ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের জালনোট জব্দ করা হয়।

ডিবি গুলশান বিভাগের ডিসি বলেন, পুরানা পল্টনের ওই ভবনের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলা ভাড়া নিয়ে চক্রের সদস্যরা জালনোট তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। এই চক্রটি ঈদের পর থেকে এই কারবার শুরু করে আসছিল। ঈদুল আজহার আগে তারা ঢাকা শহরের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেছিল। ঈদ চলে যাওয়ার পর তাদের আর কেউ খুঁজবে না এই ভেবে তারা পল্টনে তাদের কারখানা গড়ে তোলেন।

jal-taka

আসামিদের প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, জালনোট তৈরির এই কারখানার অর্থদাতা ছিল আটক শাহিন। সে একাধিক মামলার আসামি। আটক হান্নান প্রিন্টম্যান হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়াও জালনোটের বিশেষ কাগজ তৈরিকারক ছিল কাওসার। পুরো কারখানার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনে ছিল আরিফ। ছাপাকৃত জালনোট বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে ছিল ইব্রাহিম এবং খুশি।

গত দেড়মাস ধরে তারা এই ফ্লাট দুটিতে জাল টাকা তৈরি করেছিল। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লাখ সর্বনিম্ন তিন লাখ টাকা করে তারা তৈরি করত। প্রতি বান্ডেলে এক লাখ টাকা থাকে। এই একলাখ টাকা ৯ হাজার থেকে শুরু করে ১৩ হাজার টাকা পাইকারী দরে বিক্রি করত দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। আর পাইকারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে সেগুলো ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মার্কেটে ছেড়ে দিত।

ঈদের পরে আগামী পাঁচ ছয় মাস পর্যন্ত সেখান থেকে বড় রকমের ব্যবসা পরিচালনা করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার পাঁয়তারা লিপ্ত ছিল।

তিনি বলেন, আটক অপর আসামিরাও এর আগে একই অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেইউ/এমআরএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]