নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ১ এবং ৬ দশমিক ২ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ হবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষ থেকে স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এশীয় ও প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ৬ দশমিক ১ এবং ৬ দশমিক ২ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশে ৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রয়োজন। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে এ কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়ে অঙ্গীকার পাওয়া গেছে। পানি ও স্যানিটেশন খাতে সরকারের বাৎসরিক বরাদ্দ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধিপূর্বক এই সেক্টরে বর্তমান বাজেট গ্যাপ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে স্যানিটেশন, হাত ধোয়া, পরিবেশ দূষণসহ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবনজীবিকা নির্বাহের বিষয়ে জনসচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশন পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সুপেয় পানির জন্য প্রত্যেক জেলায় টেস্টিং ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পৌর এলাকার পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলের পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে অনেক মেগা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হচ্ছে। সরকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূ-উপরিস্থ পানি বা সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার প্রাধান্য দিচ্ছে।

২০২২ সালের মধ্যে আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষকে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় এবং নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি ও ৭৫ শতাংশ মানুষকে বেসিক স্যানিটেশন কভারেজ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

করোনা মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ এবং নির্দেশনার বিষয় সম্পর্কে সভায় সবাইকে অবহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

সভায় আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, ভারত, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, লাওস, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মিনারমার, পাকিস্তান, ভূটানসহ এশীয় অঞ্চল দেশের মন্ত্রী এবং উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সবার জন্য স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে এশীয় ও প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীর অংশগ্রহণে প্রতি দু’বছর পর পর বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর ওয়াশিংটন ডিসিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কোভিড-১৯ এর কারণে এ বছর ওয়াশিংটনে একত্রিত হতে না পারলেও স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অলের (এসডব্লিউএ) আয়োজনে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

আইএইচআর/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]