বন্দরে নয়, ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’ ভিড়েছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৪৭ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে ‘মাতারবাড়ি ২x৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলমান। প্রকল্পে কয়লা, তেল ও অন্যান্য ভারী মালামাল আনা-নেয়ার জন্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ২৫০ মিটার প্রস্থের টার্নিং জেটি ও মাইনাস ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীরতার চ্যানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি করা হচ্ছে দুটি স্থায়ী জেটি। তার মধ্যে অয়েল অ্যান্ড হেভি ইকুইপমেন্ট জেটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাতারবাড়ির আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এ জেটিতে গত ২৯ ডিসেম্বর প্রথম ভিড়েছিল জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’।

তখন বিভিন্ন গণমাধ্যম ‘মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে ভিড়ল প্রথম জাহাজ’ শিরোনামে সংবাদ ছেপেছিল। অথচ এ সমুদ্রবন্দরটি ‘মাতারবাড়ি ২x৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার’ প্রকল্পের অধীন। অন্যদিকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প ২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন’ নামে একনেক সভায় পাস হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদের এ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এখনও শুরু হয়নি। এর নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের চ্যানেলটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গত ৪ জানুয়ারি সরেজমিনে দেখা যায়, মাতারবাড়ির আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অয়েল অ্যান্ড হেভি ইকুইপমেন্ট জেটিতে অবস্থান করছিল এখানে আসা প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’।

Top.jpg

সেখানকার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পানামার পতাকাবাহী এই জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে মালামাল নিয়ে এসেছিল। পাওয়ার প্ল্যান্টের বয়লারের মালামাল নিয়ে এসেছিল। গত ৫ জানুয়ারি সকালে জাহাজটি চলে যায়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকারের কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)।

মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আরেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এই চ্যানেল ও জেটি সিপিজিসিবিএলের টাকায় তৈরি করা হয়েছে। অয়েল অ্যান্ড হেভি ইকুইপমেন্ট জেটিতে তেল খালাস করা হবে এবং প্রকল্প চলার সময় আমাদের যেসব ভারী যন্ত্রপাতি আসবে, সেগুলোও খালাস করা হবে। এটা একটি স্থায়ী জেটি। আসলে গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রকল্প এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু আমরা ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ২৫০ মিটার টার্নিং বেসিন এবং মাইনাস ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীরতার যে চ্যানেল তৈরি করেছি, এই চ্যানেল দিয়ে জাহাজ আসবে। বন্দর করবে কী? এই ২৫০ মিটারের সঙ্গে আরও ১০০ মিটার যোগ করবে। মোট হবে সাড়ে ৩০০। তখন সেটা হবে গভীর সমুদ্রবন্দরের অধীনে। এটাও বন্দরের একটা অংশ। এটা আমরা হস্তান্তর করব বন্দরের কাছে। জেটি আমাদের অধীনেই থাকবে। শুধু চ্যানেলটা বন্দরের কাছে হস্তান্তর করব। চ্যানেলের কিছু জায়গায় এখনো খননকাজ চলছে।’

Top.jpg

সিপিজিসিবিএলের তথ্য মতে, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে ২X৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিপিজিসিবিএল। এ প্রকল্পের আওতায় আমদানি করা কয়লা লোড-আনলোড জেটি, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, টাউনশিপ নির্মাণ, স্থানীয় এলাকায় বিদ্যুতায়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন/সমীক্ষা (EISA) এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সম্পন্ন হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার মধ্যে ২০১৪ সালের ১৬ জুন ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। তার মধ্যে জাইকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও সিপিজিসিবিএল।

পিডি/এমএএস/ইএআর/সায়ীদ আলমগীর/এসএইচএস/এইচএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।