সাকরাইন উৎসব ঢুকে গেছে আতশবাজি-ডিজে পার্টিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

একটা সময় ছিল, যখন সাকরাইন উৎসব মানেই পুরান ঢাকার ঘরে ঘরে পৌষের পিঠার ধুম পড়তো। তরুণ-তরুণীরা নতুন পোশাক গায়ে জড়াতো। সারাদিন ঢাকার আকাশে উড়তো ঘুড়ি। কিন্তু সময় বদলে গেছে। সাকরাইন উৎসবও এখন ঢুকে পড়েছে আতশবাজি আর ডিজে পার্টিতে।

প্রতিবছরের মতো এবারও উদযাপন হচ্ছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব। উৎসবের দিন শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হলে সাকরাইন উৎসব নিয়ে এখনকার হালচালে বিরক্তি ঝরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের মাস্টার্সের ছাত্র রোমানের কথায়।

এদিন সরেজমিনে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারাদিন ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব চললেও ঠিক সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই আতশবাজি, বাজি আর ডিজে গানের শব্দে মেতে উঠে পুরান ঢাকা। সঙ্গে ছিল চমকপ্রদ আলোকসজ্জা।

jagonews24

উৎসবে বাজি আর ডিজের কান ফাটানো শব্দে অনেকেই বিরক্ত। থার্টি ফাস্ট নাইটে বাজির শব্দে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুসহ এক নারীর মৃত্যুর খবর দাগ কেটেছিল মানুষের মনে। এছাড়া ফানুসের আগুনে একইসাথে ১০ জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঢাকাবাসীর অজানা নয়। এরপর থেকে দাবি উঠে, ফানুস আর আতশবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এরইমধ্যে এলো সাকরাইন উৎসব। এদিন ফানুস উড়ানো কম দেখা গেলেও আতশবাজি ও ডিজে গানেই উদযাপন হচ্ছিল উৎসব।

রাজধানীর সুত্রাপুরের স্থানীয় বাসিন্দা তাসদিদ জাগো নিউজকে জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়েছে আতশবাজি ও ডিজে গান। বাসায় দরজা, জানালা বন্ধ করে আছি। বিকট শব্দে মনে হয় যেন ভবনগুলো কাঁপছে। ঐতিহ্যের উৎসব সাকরাইন যেন ডিজে পার্টির উশৃঙ্খলতায় পরিণত হয়েছে।

এএএম/এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]