আজিমপুর কবরস্থানে স্বজনদের কান্না ও মোনাজাত
যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় রাজধানীসহ সারাদেশে পালন হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। শুক্রবার (১৮ মার্চ) এশার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
অপরদিকে একইদিনে জুমা ও শবে বরাত হওয়ায় ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে দিনভর ছিল মানুষের ভিড়। রাতেও স্বজনরা প্রিয়জনের কবর জিয়ারতে ছুটে আসেন।
অন্যান্য বছর শবে বরাত উপলক্ষে বিকেল থেকে কবরস্থানে ভিড় বাড়লেও আজ জুমার দিন হওয়ায় দুপুর থেকেই কবর জিয়ারত করতে আসে মানুষ। তবে সন্ধ্যার পর বাড়তে থাকে ভিড়। রাত যত গভীর হয় মানুষের ঢল বাড়ে।

এসময় নিরিবিলি স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ কোরআন তেলাওয়াত করেন, আবার কেউবা অঝোরে কাঁদেন, কেউ দুই হাত তুলে কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শুয়ে থাকা প্রিয় মানুষটির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
এদিকে রাত ১০টায় আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর-দক্ষিণ দিকে রাস্তার দুই ধারে ও ভেতরে ভিক্ষুকের ভিড় দেখা যায়। তাদের কেউ অন্ধ, কেউ বিকলাঙ্গ আবার কেউবা প্রতিবন্ধী। যারা কবর জিয়ারত করতে এসেছেন তাদের কাছে সাহায্য চাইছেন। অধিকাংশ মানুষ এ রাতে দুহাত খুলে দান করছেন।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, গত বছর তার মা মারা যান। প্রতি শুক্রবার তিনি কবর জিয়ারত করতে আসেন। শবে বরাত হওয়ায় আজ দুপুরে একবার ও রাতে আবার এসেছেন কবর জিয়ারত করতে।
মায়ের কবরের পাশে দাঁড়ালে ক্ষণিকের জন্য মায়ের অদৃশ্য স্পর্শ অনুভব করেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাসিন্দা ছালাম মিয়া এলাকার পরিচিত এক ভিক্ষুককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে এসেছেন। আজ যা রোজগার হবে তা দুই ভাগ হবে এই শর্তে সঙ্গে এনেছেন। দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হাজার খানেক টাকা পেয়েছেন। ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত আরও দুই-এক হাজার টাকা বাড়বে বলে আশা তার।
এমইউ/জেডএইচ/