ঈদে প্রস্তুত রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০৯ জুলাই ২০২২
ফাইল ছবি

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ঢাকা ছেড়েছেন অনেকেই। তবে ঈদুল আজহার ছুটি রাজধানীতে কাটাবেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কোরবানির এই ঈদে গরু-ছাগল জবাই, মাংস কাটতে ও বিতরণে চলে যাবে দিনের বেশিরভাগ সময়ই।

তবে এত ব্যস্ততার পরও ঈদের দিনের বিকেলটা একটু আনন্দে কাটাতে পছন্দ করেন অনেকেই। এ লক্ষ্যে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে রাজধানী ও এর আশেপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন অধিকাংশ মানুষ। এদের কথা মাথায় রেখে এরইমধ্যে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে মধ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানা, জাতীয় জাদুঘর, ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড (শিশু মেলা), হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, রবীন্দ্র সারোবর দর্শনার্থীদের কাছে অধিক জনপ্রিয়।

এছাড়া ঢাকার অদূরে রয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক। ঈদের ছুটিতে এসব বিনোদনকেন্দ্র দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

ঈদের ছুটি কিংবা যেকোনো উৎসবে মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। গত রোজার ঈদের পর দুদিন এই বিনোদনকেন্দ্রটি রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার কথা জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মুজিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুরো চিড়িয়াখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি। দর্শনার্থীদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি ঈদের দিনসহ মোট তিনদিন দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অনেক ভালো থাকবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস থেকে পাঁচ প্রজাতির ১৬টি প্রাণী আনা হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি আফ্রিকান সিংহ, তিনটি পেলিক্যান, চারটি লামা, দুটি ক্যাঙ্গারু ও তিনটি ওয়াইল্ড বিস্ট। প্রাণীগুলো এখনও পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ, পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

ঈদে প্রস্তুত রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

এদিকে, শাহবাগের মূল শিশুপার্কটি না থাকায় শ্যামলীর শিশু মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে। এটি এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ৪০টির মতো রাইড আছে এখানে। পরিবারের সবার চড়ার উপযোগী আছে ১২টি রাইড। বাকিগুলো শিশুদের। ঈদের প্রথম সাতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে বলে জানান শিশুমেলার অপারেটর হামিন আহমেদ।

রাজধানীতে প্রিয়জনদের সঙ্গে মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোর উৎকৃষ্ট জায়গা হাতিরঝিল। ঝিলের মনোরম দৃশ্য ও দৃষ্টিনন্দন সেতুগুলোতে অনেকেই ঈদের দিন বিকেলে সময় কাটাতে আসবেন। এছাড়াও ধানমন্ডির সংসদ ভবন ও রবীন্দ্র সরোবরেও দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে। একই সঙ্গে টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ খোলামেলা সব জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে ঈদ উদযাপন করবেন রাজধানীবাসী।

ঈদে রাজধানীর বেশিরভাগ ফুডকোর্ট ও রেস্তরাঁগুলোও খোলা থাকবে। সিনেমা হলে মুক্তি পাবে নতুন ছবি। সাভার ও আশুলিয়ার দুটি থিমপার্কে ঈদের দিন বেশ ভিড় দেখা যায়।

আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম ঈদের প্রথম সাতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ঈদ উপলক্ষে মূল্য ছাড়ের অফার দিয়েছে পার্কটি। ১৫০০ টাকায় ফ্যান্টসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম ও এক্সট্রিম রেসিংয়ের রাইডগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

সাভারের নন্দন পার্কেও বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন সকাল থেকেই খোলা থাকবে পার্ক। ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ও ড্রাই পার্কের সব রাইড ঈদে চালু থাকবে। ডিজে পার্টিসহ সেলিব্রেটি আড্ডার আয়োজন করেছে পার্কটি।

এসএম/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।