দেশের এভিয়েশন খাত কঠিন সময় পার করছে: এওএবি
# এখন পর্যন্ত নিবন্ধন পেয়েছে ১১টি
# টিকে আছে ২টি
# আসার কথা আরও ২টির
দেশের এভিয়েশন খাত কঠিন সময় পার করছে। দুই বছর আগে করোনার কারণে এই খাত ক্ষতির মুখে পড়ে। সে ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এয়ারলাইন্সগুলো। এর মধ্যেই বেড়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম। ফলে এয়ারলাইন্স ও হেলিকপ্টারের পরিচালন ব্যয়ও অধিকহারে বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ‘মিডিয়া ওয়ার্কশপ অন এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এসময় এওএবির পক্ষ থেকে এই খাতের সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। সরকারি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা, টিকিটের কম দাম, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত উচ্চহারের ফি, সারচার্জ, কাস্টমসে জটিলতা, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের উচ্চহারে ভ্যাট ও ট্যাক্স সমস্যার বিষয়ে তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসা ভালো নেই উল্লেখ করে কর্মশালায় এওএবি সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী বলেন, এভিয়েশন খাত অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন সময় পার করছে। বিরাট সম্ভাবনাময় এই খাতটি সাংঘাতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারণসহ নানা সমস্যা আছে এখানে। যারা নীতিনির্ধারক, তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। এইখাতে যেসব সমস্যা চলছে তা সবার জানা প্রয়োজন।
কর্মশালায় এওএবির মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, উড়োজাহাজের ভাড়া বাড়িয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খরচ জ্বালানিতে। অভ্যন্তরীণ রুটের ক্ষেত্রে সেই জ্বালানি আন্তর্জাতিক রুটের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। জ্বালানির পাশাপাশি ট্যাক্সও কমাতে হবে। তা না হলে শুধু এয়ারলাইন ব্যবসা করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।
জ্বালানির দাম অধিকহারে বেড়েছে উল্লেখ করে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ২০১৩ সালে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৮১ টাকা। সেটি বাড়তে বাড়তে এ বছর হয়েছে ১০১ টাকা। আমাদের প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে জ্বালানি কিনতে হয়। অথচ ফ্লাইট পরিচালনা ব্যয়ের একটা বড় অংশ নির্ভর করে জেট ফুয়েলের দামের ওপর। জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে এয়ারলাইন্স পরিচালনার খরচও বেড়ে যায়।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, গত ৫২ বছরে এভিয়েশন খাতে যে উন্নতি হওয়ার কথা, তা হয়নি। ঠাকুরগাঁও, কুমিল্লা, বগুড়া, লালমনিরহাটে বিমানবন্দর আছে। এগুলোকে কাজে লাগানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, যেখানে সংকট ও চ্যালেঞ্জ থাকে, সেখানে সুযোগও থাকে। দেশের এভিয়েশন খাতে যেসব সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স সংস্থা করেনি, করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো। এখন যে সংকট চলছে, তা সামনে হয়তো থাকবে না। কিন্তু, এখাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
কর্মশালায় এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু ১৯৯৭ সালে। বিভিন্ন সময়ে দেশে মোট ১১টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স নিবন্ধন পেলেও এখন টিকে আছে মাত্র দুইটি। এর মধ্যে একে একে বন্ধ হয়ে যায় জিএমজি এয়ারলাইন্স, এয়ার পারাবাত, এয়ার বাংলাদেশ, জুম এয়ারওয়েজ, বেস্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার, রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইন্স ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। দেশে নতুন করে আরও দুটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স আসার কথা রয়েছে। গত বছর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফ্লাই ঢাকা ও এয়ার অ্যাস্ট্রাকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়েছে।
এমএমএ/কেএসআর/জেআইএম