কম দামে পণ্য বিক্রির ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মরদেহ ফেলা হয় মেঘনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী জুয়েল শিকদার। পুরোনো প্লাস্টিকের পণ্য কিনে রিসাইকেল করে বিক্রি করতেন। আর সেই প্লাস্টিকের পণ্য বিক্রির ফাঁদে ফেলে জুয়েল ও তার কর্মচারী মোর্শেদকে বরিশালে নিয়ে যায় এক অপহরণকারী চক্র। পরে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা হাতিয়ে নিয়ে অপহরণকারীরা তাদের হত্যা করে মরদেহ মেঘনা নদীতে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে বরিশালের মেন্দীগঞ্জ ও মুলাদী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন-নুরুজ্জামান হাওলাদার (৪০), মো. আজিজ শিকদার (৩৪), হাফেজ চৌকিদার (৪৬) দেলোয়ার হোসেন মোল্লা ওরফে দেলু (৩৫)।

এসময় তাদের কাছ থেকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ন-কমিশনার বিজয় বিপ্লব তালুকদার।

কম দামে পণ্য বিক্রির ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মরদেহ ফেলা হয় মেঘনায়

তিনি বলেন, গ্রেফতার জুয়েল সিকদার রাজধানীর চকবাজারের প্লাস্টিক ব্যবসায়ী। তার পূর্ব পরিচিত দেলোয়ার হোসেন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি তাকে কম দামে প্লাস্টিকের কাচামাল কেনার প্রস্তাব দেন। ব্যবসায়ী জুয়েল ও তার কর্মচারী গত ১৪ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার উলানিয়া ঘাটে যায়। সেখানে কথিত ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান, আজিজ ও হাফিজ নামে এক মাঝি একটি ট্রলারে করে তাদের মেঘনা নদীতে নিয়ে যায়।

পরে তাদের চোখে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাদের মোবাইলফোন বন্ধ করে জুয়েলের সঙ্গে থাকা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দেলোয়ার। এরপর জুয়েল ও তার কর্মচারী নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাদের মরদেহ মেঘনা নদীতে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

যুগ্ম কমিশনার বিজয় বিপ্লব তালুকদার আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনদিন পর বরিশালের মুলাদি ও ইলিশায় প্লাস্টিক ব্যবসায়ী জুয়েল ও তার কর্মচারী মোরর্শেদের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত জুয়েলের বাবা ডিএমপি চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

কম দামে পণ্য বিক্রির ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মরদেহ ফেলা হয় মেঘনায়

পরে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে ব্যবসায়ী জুয়েল শিকদার ও তার কর্মচারী মোর্শেদ আলম হত্যাকাণ্ডের জড়িত চারজনকে বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে যুগ্ম কমিশনার বলেন, অপহরণকারীরা একে অন্যের সঙ্গে মিলে প্লাস্টিক ব্যবসায়ী জুয়েল ও তার কর্মচারীকে অপহরণ করে বরিশালে থেকে উলানিয়া ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে মেঘনা নদী নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতাররা মরিচের গুঁড়া দিয়ে গলা চেপে তাদের নিস্তেজ করে। পরে জুয়েলের সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে তাদের মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব বিজয় বলেন, গ্রেফতাররা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র। তারা এর আগের এর ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাদের রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

টিটি/এমআইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।