নতুন নেতৃত্ব আসছে ফিফায়
চরম আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সমালোচনার মুখে পড়া বিশ্ব ফুটকলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বহু প্রতীক্ষিত নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অাজ সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এর সাথে দীর্ঘ ১৮ বছর পর সংস্থাটি পেতে যাচ্ছে নতুন নেতৃত্ব। কে হচ্ছেন সেপ ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি জানতে উদগ্রীব গোটা বিশ্ব। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটদান প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা শুরুর কথা রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে তিন মাসের জন্য বহিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত সুইস নাগরিক ব্লাটার ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফার ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে ছিলেন। তবে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে গত বছরই প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এই ঘটনার পর ফিফার গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সময়ের দাবিতে পরিণত হয় নতুন নেতৃত্ব।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয় নির্বাচন তারিখ। ফুটবলের সর্বময় সংস্থাটির নেতৃত্ব দিতে বিশ্বের অনেক সংগঠক আগ্রহী হলেও, শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান পাঁচ প্রতিদ্বন্দ্বী। ফিফার ৯ম সভাপতি হবার জন্য লড়বেন এ.এফ.সি`র সভাপতি শেখ সালমান, উফেয়ার মহাসচিব জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ফিফার সাবেক উপ-মহাসচিব জেরোমে শ্যাম্পেইন, বাহারাইনের প্রিন্স আলী ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ী টোকিও সেক্সওয়েল।
নির্বাচনে এগিয়ে ছিলেন উয়েফার সাবেক প্রধান মিশেল প্লাতিনি। তবে সেপ ব্ল্যাটারের পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হন প্লাতিনি। কিন্তু প্লাতিনি নির্বাচন থেকে বাদ পড়লেও উয়েফার সমর্থন নিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন তার উত্তরসূরি জিয়ান্নি ইনফানন্তিনো।
এদিকে, এশিয়া আর আফ্রিকা বড় এ দুই ফুটবল কনফেডারেশনের সমর্থন নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খালিফা। রাজবংশীয় এই ফুটবল সংগঠকের বিশ্বাস বহুল আলোচিত এই ফিফা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী আফ্রিকান কনফেডারেশনের ৫৪টি ভোট যাবে তার পক্ষে।
গত নির্বাচনে সেপ ব্ল্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিন্স আলী সার্বিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তারিখ পেছানোর আবেদন জানালেও তাতে সাড়া দেননি খেলাধুলা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালত। তবে বোদ্ধাদের মতে নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।
শুক্রবার প্রথমে ফিফা কংগ্রসের অধিবেশনে সংস্থাটির গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে। অধিবেশন শেষে ফিফার সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে বেছে নেবে তাদের নতুন সভাপতিকে। নির্বাচনের প্রথম ধাপে কোন দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে সরাসরি নির্বাচিত হতে পারেন। আর তা না হলে নির্বাচন গড়াবে দ্বিতীয় ধাপে।
ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে ফিফার ২০৭ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে ভোট দিতে পারবে না ইন্দোনেশিয়া এবং কুয়েত।
এমআর/পিআর