‘২০২৫ সালের মধ্যে ইউরোপ-আমেরিকায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা’

মুসা আহমেদ
মুসা আহমেদ মুসা আহমেদ
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম/জাগো নিউজ

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। এখন এয়ারলাইন্সটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ। আটটি অভ্যন্তরীণ ও নয় দেশের ১১টি আন্তর্জাতিক রুটে সুনামের সঙ্গে যাত্রী পরিবহন করছে ইউএস-বাংলা। শিগগির ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা এবং ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা, ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা, ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।

ভবিষ্যতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ীমূল্যে সেবা অব্যাহত রাখতে চায় সংস্থাটি। নিজেদের অগ্রযাত্রা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের নানা বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুসা আহমেদ

জাগো নিউজ: কেমন আছেন?

কামরুল ইসলাম: আলহামদুলিল্লাহ। ভালো আছি।

জাগো নিউজ: প্রায় এক দশক অতিক্রমের পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। দীর্ঘ এ যাত্রা কেমন ছিল?

কামরুল ইসলাম: বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশনে প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু ২৫-২৬ বছর আগে। এ যাত্রাপথে বেশকিছু এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ইতিহাসের পাতায় তাদের স্থান দেখতে পেয়েছি। এ প্রেক্ষাপটের মধ্য থেকেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দেশের মানুষ ও যাত্রীদের সেবা দিতে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর-ঢাকা রুটে দুটি এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট শুরু করে।

এই সাড়ে নয় বছরে আমরা অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসেছি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পলিসিগত ও প্রতিযোগিতা পূর্ণ অবস্থানের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়েছে। আমি বলবো, এই যাত্রাপথে বাংলাদেশের যাত্রীরা ইউএস-বাংলার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার ওপর ভরসা করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের যাত্রীরা যদি আমাদের পাশে থাকেন আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।

আরও পড়ুন>> নভোএয়ারে লক্ষ্য এবার আন্তর্জাতিক রুটে সফলতা অর্জন: এমডি

জাগো নিউজ: এখন ইউএস-বাংলা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কয়টি রুটে যাত্রী পরিবহন করছে? যাত্রীদের কাছে থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছে?

কামরুল ইসলাম: অমরা অভ্যন্তরীণ আটটি (ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, খুলনা, সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী) রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছি। এছাড়া নয়টি আন্তর্জাতিক (গুয়াংঝু, কলকাতা, চেন্নাই, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দোহা, মালে, মাস্কাট, দুবাই, শারজাহ) রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছি। খুব শিগগির আমরা ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা, ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা, ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে কাজ করছি। এই চারটি রুটে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারলে পরবর্তী লক্ষ্য ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন রুট। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বেশকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালুর কথা জানতে পেরেছি। সেগুলো চালু হলে আমরা ফ্লাইট শুরু করবো।

জাগো নিউজ: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন?

কামরুল ইসলাম: গত ২৬ বছর ধরে দেশের প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলো বিমানবন্দরে হ্যাঙ্গার সুবিধার জন্য সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। এ দাবি পূরণ হওয়ার আগেই অনেক এয়ারলাইন্সকে ইতিহাসে পাতায় চলে যেতে হয়েছে। সেই জায়গায় আমরা খুবই সৌভাগ্যবান। আমাদের নিজস্ব হ্যাঙ্গার ব্যবস্থা আছে। যেখানে আমরা এয়ারলাইন্স মেইনটেনেন্স করতে পারি। এর মাধ্যমে সেফটি এবং সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জায়গা ও সুযোগ পেয়েছি।

আরও পড়ুন>> কোয়ালিটি সার্ভিস দিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা: সিইও

আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন আমাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চার্জ ধরা হয়। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চার্জে কিছু অসমতা আছে। একটা বাংলাদেশি উড়োজাহাজ হিসেবে সেটা অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক যে কোনো রুটই হোক, চার্জটা এক হওয়া উচিত বলে আমার কাছে মনে হয়। কারণ, একই ধরনের উড়োজাহাজ যখন কলকাতা থেকে ঢাকায় আসে বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে তখন আমাদের আন্তর্জাতিকে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি চার্জ দিতে হয়। এটা যদি একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়, তখন বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলোর টিকে থাকা সহজ হবে।

এছাড়া বিভিন্ন সময় সিভিল অ্যাভিয়েশনে আমাদের যে বকেয়া থাকে সে বকেয়ার ওপর বছরে প্রায় ৭২ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। যেটা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ বা যেসব দেশে যাত্রী আনা-নেওয়া করছি সেখানে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশের বেশি নয়। আমরা অনেক বছর ধরেই সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি এই চার্জটা যেন প্রতি মাসে এক শতাংশ এবং বছরে ১২ শতাংশ হারে করা হয়। যাতে আমাদের টিকে থাকাটা সহজ হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এয়ারলাইন্সকে যদি বিজনেসে সাবলীল রাখতে হয়, এটার পিছনে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। আমাদের ওপর যে কোনো চার্জ যদি নতুন করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়, সেটা কিন্তু দিনশেষে যাত্রীদের ওপর গিয়ে পড়ে।

এখন জেট ফুয়েল অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার ১১৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ২০১৯ সালে আমরা দেখেছি, এটার দাম তখন ছিল মাত্র ৪৬ টাকা লিটার। গত তিন মাস আগে এই জেট ফুয়েল ১৩০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। তখন এই জেট ফুয়েলের দামের সঙ্গে ভাড়ার সমন্বয় করতে হয়। যে অনুপাতে জেট ফুয়েলের দাম রাতারাতি বেড়েছে, সেভাবে কিন্তু এয়ারলাইন্সের ভাড়া বাড়ানো যায়নি। এমন অবস্থায় আমাদের ভর্তুকি দিয়ে চলতে হয়। এক রুটের লাভ দিয়ে আরেক রুট চালাতে হয়। সরকার যে কাজটা সব সময়ই করে, যেমন আজ দিনে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করলো, রাত ১২টার পর থেকেই তা কার্যকর করে নেয়। কিন্তু এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান যখন আগের দামে টিকিট বিক্রি করে, তখন নতুন করে দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকে না। এই পরিচালনার মধ্যে যে তারতম্য সে কারণে লোকসান দিতে হয়। অথচ অভ্যন্তরীণ রুটের ৯৫ শতাংশ যাত্রী দেশের। তাই বিষয়টা নিয়ে সরকারের চিন্তা করা উচিত।

জাগো নিউজ: গত সাড়ে নয় বছরে কতটা সফল বলে মনে করেন।

কামরুল ইসলাম: ঢাকা-যশোর রুটে দুটি এয়ারলাইন্স দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আমরা ২০১৬ সালের কাঠমান্ডুতে ফ্লাইট চালু করি। তারপর ধারাবাহিকভাবেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে বাংলাদেশি বেশি বাস করেন, সেসব অঞ্চলে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা। এখন প্রতিবছর আমাদের ফ্লাইট নতুন নতুন গন্তব্যে যাচ্ছে। বহরে একের পর এক নতুন উড়োজাহাজ যোগ হচ্ছে। এখন আমাদের বহরে ১৮টি এয়ারক্রাফট আছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, নতুন এয়ারক্রাফট দিয়ে আমরা যাত্রী পরিবহন করবো। আমরা সেটি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এয়ারক্রাফটগুলোর গড় বয়স ১০ বছর।

আরও পড়ুন>> শাহজালালে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়, আইএলএস আপগ্রেডেশনে গড়িমসি

চলতি বছরের মে মাসে আমাদের বহরে আরও দুটি এয়ারক্রাফট যোগ হবে। জুলাই থেকে আমরা ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা ফ্লাইট করার পরিকল্পনা করছি। আমরা যে শুধু পরিকল্পনা করছি তা কিন্তু নয়। আমরা তা বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করছি। স্বাধীনতার পর গত ৪৭ বছরে আমরা কেউ চীনের কোনো গন্তব্যে যেতে পারিনি। ইউএস-বাংলায প্রথম এয়ারলাইন্স যেটা ঢাকা-গুয়াংঝু-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে এই রুটে যাত্রী পরিবহন চলছে। এখন পর্যন্ত সেই রুটে আমরা কন্টিনিউ ফ্লাইট পরিচালনা করছি। করোনার সময় যখন সারা বিশ্বের সঙ্গে আকাশপথে বাংলাদেশের যোগাযোগ বন্ধ ছিল, তখন আমরা গুয়াংঝুতে ফ্লাইট নিয়মিত করেছি।

বাংলাদেশ থেকে প্রচুর যাত্রী ইন্ডিয়া যাচ্ছে। কেউ বেড়াতে যায়, কেউ চিকিৎসা, ব্যবসা বা পড়াশোনার কাজে যাচ্ছে। আগে চেন্নাই যারা যেত তারা আগে কলকাতা হয়ে সড়ক বা রেলপথে যেতে হতো। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২০১৮ সাল থেকে ঢাকা চেন্নাই-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অল্প সময়ে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে যেতে পারছে।

ঢাকা-মালদ্বীপ রুট একটা সময় বিলাসী ছিল। এত সুন্দর একটা দেশের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ ছিল না। দেশটির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুট হয়ে মালদ্বীপ যেতে হতো। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ঢাকা-মালদ্বীপ-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। প্রথমদিকে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট অপারেশন শুরু করেছিলাম। এখন সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন>> ই-গেটের সুফল নেই, লাইনেই ঘণ্টা পার যাত্রীদের

মূল কথা হলো, বাংলাদেশি মানুষ যেসব রাষ্ট্রে অঞ্চলে আছে সেখানে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা শিগগির ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনার করার পরিকল্পনা করছি। এছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মামে ফ্লাইট চালুর পরিচালনা রয়েছে। যদি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক হয়, তাহলে আমরা ২০২৪ সালের মধ্যেই ইউরোপের লন্ডন ও রোমে ফ্লাইট পরিচালনা করবো। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার টরেন্টোতে ফ্লাইট পরিচালনা করার প্রস্তুতি আছে।

জাগো নিউজ: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলা অন্য এয়ারলাইন্স থেকে ইউএস-বাংলার কী এমন সুযোগ-সুবিধা আছে, যেটা ভ্রমণে যাত্রীদের আগ্রহী করে।

কামরুল ইসলাম: গত সাড়ে নয় বছর ধরে আমরা যে ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করছি, তার মধ্যে গড়ে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট সময়মতো ছেড়েছি এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজগুলো খুবই কমফোর্টেবল। যাত্রীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ফ্লাইট শিডিউল দেই, নিজেদের মতো করে নয়। এখন আমরা ঢাকা-সিলেটে দিনে ছয়টি ফ্লাইট অপারেশন করছি। একটা সময় আমরা সান্ধ্যকালীন এবং সকালে ফ্লাইট পরিচালনা করতাম। এখন ছয়টি ফ্লাইট অপারেশন করছি চট্টগ্রামে, কক্সবাজারে নয়টি। যে ফ্লাইট পরিচালনা করছি, সেক্ষেত্রে যাত্রীরা তাদের সময় এবং তারিখের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। অ্যাভেইলেবল ফ্লাইট পেয়ে গেলে যাত্রীদের শিডিউলের কাজটা সহজ হয়। আর আমাদের নতুন উড়োজাহাজগুলোতে বসা আরামদায়ক এবং পর্যাপ্ত স্পেস থাকে। সবকিছু হিসাব করে আমি বলবো ইউএস-বাংলাকে পছন্দ করার অন্যতম কারণ হলো অনটাইম পারফরম্যান্স। সঙ্গে আরামদায়ক যাত্রা।

জাগো নিউজ: ২০১৮ সালের মার্চে নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়। এখন যাত্রীদের যাতায়াতে ইউএস-বাংলা কতটা নিরাপদ?

কামরুল ইসলাম: নেপাল শুধু ইউএস-বাংলার জন্য নয়, যে কোনো এয়ারলাইন্সের জন্য বিপজ্জনক। তবে দুর্ঘটনা পরবর্তী আমাদের কার্যক্রম কেমন ছিল সেটি দেখার বিষয়। দুর্ঘটনার পর যারা আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন তাদের পাশে ইউএস-বাংলা ছিল। আহত যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর বা ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ ঢাকায় এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যদের নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা তাদের নেপালে নিয়ে গিয়েছিলাম। প্রত্যেকটি বিষয় কিন্তু দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

তারপর এই যাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স কাভারের জন্য তাদের যারা সন্তান ছিলেন বা তাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিন মাসের মধ্যেই আমরা তাদের প্রথম ইন্স্যুরেন্সের টাকা দিয়ে দেই। এই জায়গাটা থেকে নিরাপত্তা বা আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। এছাড়া দুর্ঘটনা পরবর্তী তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনার কোনো ঘাটতি ছিল না বলে উঠে এসেছে।

আমরা এখন চীনের গুয়াংঝুতে যে ফ্লাইট পরিচালনা করছি সেখানকার অথরিটির সব শর্ত পূরণ করেই ফ্লাইট পরিচালনা করছি। তারপর ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করছি, যেটা সারা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্ট। একইভাবে দুবাইতে ফ্লাইট পরিচালনা করছি। যেখানে সারা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট অপারেশন করছে। সব মিলিয়ে ওই দুর্ঘটনার পর যত ধরনের নিরাপত্তা আছে, সব মেনে চলতে চেষ্টা করছি। আমাদের স্টাফদের যত ধরনের ট্রেনিং আছে সব দেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আমরা অনেক ভালো আছি।

জাগো নিউজ: গত দুই বছরে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে সব রুটেই ভাড়া বাড়িয়েছেন। এটা কীভাবে সমন্বয় করেন? ভাড়া কমানোর বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

কামরুল ইসলাম: দেশে জেট ফুলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে একটি ফ্লাইট পরিচালনার গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ খরচ হয় জেট ফুয়েলে। এ জেট ফুয়েলের দাম রাতারাতি বাড়ানো হয়, তার প্রভাবটা এয়ারলাইন্সের ওপর পড়ে। আর এয়ারলাইন্সের ওপর প্রভাব পড়লে তা ঘুরে যাত্রীদের ওপর যায়। এতে ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স শুধু একটি কোম্পানি নয়, এটা গ্রুপ। এখানে অনেকগুলো কোম্পানি আছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, নিজেদের মধ্যে ভর্তুকি দিয়ে এয়ারলাইন্স পরিচালনা করতে হয়। সে জায়গায় আমরা সাবসিটি দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি। এর দাম সমন্বয় বা কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করি তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।

জাগো নিউজ: ইউএস-বাংলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

কামরুল ইসলাম: পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন- এ দুটি বিষয় সামনে নিয়ে ইউএস-বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে। সে চেষ্টার অংশ হিসেবে আমাদের বহরে যেমন দুটি এয়ারক্রাফট থেকে ১৮টি হয়েছে। সেভাবে ঢাকা-যশোর-ঢাকা রুট থেকে আমরা এখন আন্তর্জাতিক রুট নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে ইউরোপ-আমেরিকাতে পরিচালনার পরিকল্পনা করছি। সবকিছু মিলে আমাদের বহরকে যেমন এয়ারক্রাফট দিয়ে সমৃদ্ধ করতে চাচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই থাকুক না কেন সেসব দেশে আমরা ফ্লাইট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।

এমএমএ/এএসএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।