করোনার কারণে দেশে বেকার বেড়েছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কর্মচ্যুত হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের কারণে দেশে বেকারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এসব শিক্ষিত যুবদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে দেশে বেকারের সংখ্যা ও দারিদ্র্য উভয়ই হ্রাস পাবে।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর কল্যাণপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ১৬ জেলায় এ প্রশিক্ষণের সূচনা করা হলো।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে- ঢাকা, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, রাজশাহী, নড়াইল, ঠাকুরগাঁও, ভোলা ও শেরপুর। তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে মোট ৬ হাজার ৪০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামে গামে এখন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা ডলার আয় করছে। যুব সমাজ যে কোনো দেশের মূল্যবান সম্পদ। জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমাদের যুব সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে পদার্পণ করেছে। দেশের জনসাধারণের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। কোডিড-১৯ এর কারণে দেশে বেকারের সংখ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শিক্ষিত যুবদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
প্রশিক্ষণে ৬টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো- ফ্রিল্যান্সিং, মাইক্রোসফট অফিস, নেটওয়ার্কিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা। এতে হাতে-কলমে কাজের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। বিনামূল্যে তিন মাসের এ প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের দিনে ২০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
প্রাথমিক অবস্থায় দেশের ১৬টি জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রতিটি জেলায় প্রতি বছর ৪ ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে ৪০ জন যুবক ও নারী পাবেন এ প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৩ মাস বা ৬০০ ঘণ্টা। প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস এবং বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আখতার হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সচিব ড. মহিউদ্দীন আহমেদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিন। এছাড়া ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমওএস/কেএসআর/জেআইএম