ঢাকা থেকে চুরি করে কুরিয়ারে মোবাইল-ল্যাপটপ পাঠাতেন কক্সবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৮ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৩

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি করতো একটি চক্র। চোরাই এসব মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বিক্রির জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হতো কক্সবাজারে। ওই চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রাজধানী ঢাকা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থেকে তাদের গ্রেফতার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। গ্রেফতারা হলেন- নুর ইসলাম (৩৫) ও আবু বরকত মিশকাত (৩২)। এসময় তাদের কাছ থেকে চোরাই চারটি আইফোন, ৩৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও ৩টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

রোববার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ।

pol-3.jpg

তিনি বলেন, গত ২৭ মার্চ সকালে কলাবাগান থানার ক্রিসেন্ট রোড-২ এর একটি ফ্ল্যাটের ৬ষ্ঠ তলা থেকে চারটি আইফোনসহ নগদ এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা চুরি হয়। সবমিলিয়ে ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ (নগদ ও পণ্য) চুরি সংক্রান্ত মামলা হয় রাজধানীর কলবাগান থানায়।

এই ঘটনার তদন্তের বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, রমনা বিভাগের কলাবাগান থানার আভিযানিক একটি দল তদন্ত শুরু করে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পযার্লোচনা করে। তারা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পুলিশ গত ২৯- ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করে। অভিযানে রাজধানী ঢাকা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

pol-3.jpg

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতাররা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ চুরি করে তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতেন। এরপর চোরাই মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করতেন।

ঢাকার বাইরে থেকে চোরাই পণ্য উদ্ধারের বিষয়ে শহিদুল্লাহ বলেন, তারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চোরাই জিনিসগুলো কক্সবাজারে পাঠিয়ে দিতেন।

রাজধানীতে চোরাই জিনিসপত্র বিক্রির কোনো স্থান রয়েছে কি না জানতে চাইলে এ উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীতে আমরা এমন কোনো স্থান পাইনি। রাজধানীতে মানুষ সচেতন হওয়ায় চোরাই জিনিসপত্র তেমন কেনে না। তাই চোর চক্রের সদস্যরা সেগুলো রাজধানীর বাইরে পাঠিয়ে দেন। গ্রামের মানুষ একটি মোবাইল ফোনের দাম কম দেখলে কিনে নিতে পারে। তারা সাধারণত খোঁজ নেয় না কোথা থেকে মোবাইল ফোনটা এসেছে।

আরএসএম/কেএসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।