ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সিটি করপোরেশন ব্যর্থ: ড্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২৩

দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, ডেঙ্গু নতুন কোনো রোগ নয়। এটা প্রতিকারের জন্য সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এখন দুর্বলতা ঢাকতে তারা (সিটি করপোরেশন) বাড়ির মালিকদের উল্টো জরিমানা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড্যাব নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুরোধে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণার দাবি

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নতুন কোনো রোগ নয়। এটা প্রতিকারের জন্য সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা বছর যে ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ২০১৯ সালে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে ইতিহাস তৈরির নজির রয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, যথাযথ পরিকল্পনা, পূর্বপ্রস্তুতি ও কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণেই সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। বড় সিটি করপোরেশনগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিক্ষিপ্তভাবে অকার্যকর কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে থেকে জানা যায়, ৬ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে মাত্র এক হাজার ২৯০টি জায়গায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গু বুঝবেন যেসব লক্ষণে

ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এডিস মশা যে শুধু মানুষের ঘরের ফুলের টবে কিংবা ছাদে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই হয়, তা নয়। বিভিন্ন পাবলিক প্লেস এবং বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণাধীন ভবন ও স্থাপনায় পড়ে থাকা বোতল, প্যাকেট, ডাবের খোসা, কনটেইনার, ড্রাম, ব্যারেল, পরিত্যক্ত টায়ার, ইটের গর্ত ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতে জন্মাতে পারে। এ কারণেই ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপাল ঢাকায় এসে বলে গিয়েছিলেন, নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো এডিস মশার অন্যতম বড় উৎস, এখানকার মশা উৎপাদন ক্ষেত্র বিনাশ করা সম্ভব হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ৫০ টাকায় হবে ডেঙ্গু পরীক্ষা

সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা ও সমন্বিত চেষ্টা কর্তৃপক্ষের ছিল না। যেটুকু উদ্যোগ দেখা গেছে, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রতুল। সরকারি হিসাবেই ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এরপরও ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া জেলা-উপজেলা শহর ও গ্রামে মশকনিধন কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ছে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অনেক ঘাটতি রয়েছে। পৌর এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই নাজুক। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যক্রমই নেই। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব ইউনিয়ন পরিষদই মশা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র, ওষুধ ও জনবলশূন্য।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাব মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম।

আরএসএম/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।