তারেকের সাজা নিয়ে সারাহ কুকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২৩

বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজার বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ব্রিটিশ হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিন মাস আগে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনের স্থলাভিষিক্ত হন সারাহ কুক। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন কুক।

jagonews24

আরও পড়ুন: তারেকের ৯, জোবায়দার ৩ বছরের কারাদণ্ড

আইনমন্ত্রী বলেন, সারাহ কুক বাংলাদেশে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আমার সঙ্গে এটিই তার প্রথম সাক্ষাৎ। তিনি যখন এখানে ডিএফআইডির প্রধান ছিলেন তখন আমার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। এটি তার রুটিন সাক্ষাৎ। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সবার সঙ্গেই দেখা করছেন, এরই ধারাবাহিকতায় আমার সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে তার আগের এরিয়া (ডিএফআইডি) নিয়ে কথাবার্তা বলেছি। তিনি নিজে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে অত্যন্ত খুশি। নিজেই সেটা জানিয়েছেন। বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার ঘোষিত আয়ের বাইরে সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে দুদকের করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুই ধারায় ৯ বছর এবং তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তারেককে ৩ কোটি ও জোবায়দাকে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত সম্পদ হিসেবে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন বিচারক।

আরও পড়ুন: তারেক-জোবায়দার সাজার রায় ফরমায়েশি

এ নিয়ে পাঁচটি মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজার রায় দিয়েছেন আদালত। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন তারেক রহমান।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের আইনি অবকাঠামোর অনেক কিছুই ব্রিটিশ আইনের ওপর নির্ভরশীল। এখন আইনের ক্ষেত্রে অনেকরকম উন্নয়ন হয়েছে এবং এটি আরও কীভাবে উন্নতি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা পরস্পর আলাপ-আলোচনা করেছি। যুক্তরাজ্যে আমাদের যে জুডিশিয়াল অফিসার ও আইনজীবী আছেন তাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আমরা আলাপ করেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে চেষ্টা করছে সরকার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করি, তারপর আপনাদের কাছে ফিরে আসবো।

jagonews24

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমার সঙ্গে তেমন কোনো কথা হয়নি। উনি আমাকে শুধু বলেছেন, ‘আমি খুব ইন্টারেস্টিং সময়ে বাংলাদেশে এসেছি’। আমি তাকে বলেছি, হ্যাঁ। এখন কম-বেশি আমাদের মনোযোগ নির্বাচন ঘিরে।

আরও পড়ুন: তারেককে ফেরাতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে

দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভায়োলেন্স ফ্রি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জনগণের কাছে শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান মন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স উপদেষ্টা রফিকুজ্জামান, ব্রিটিশ হাই কমিশনের দ্বিতীয় সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) ভেনেসা বিউমন্ট উপস্থিত ছিলেন।

আইএইচআর/এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।