গাবতলীতে ফুলের পাইকারি বাজার
সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে, সমস্যা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা
দেশে একসময় শুধু গাঁদা, গোলাপ ও রজনীগন্ধা চাষ করা হলেও এখন ১৫-১৬ ধরনের ফুলের চাষ হচ্ছে। একসময় বিদেশ থেকে ফুল আমদানি হত, এখন টিউলিপ, কসমসসহ অনেক বিদেশি জাতের ফুলের চাষ হচ্ছে বাংলাদেশ। ফুল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, সারা বছরই থাকছে ফুলের বাজার, যার আকার প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা।
এ ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার রাজধানী ঢাকায়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ফুল ঢাকায় আসে। শাহবাগ, আগারগাঁও, মিরপুর ১১সহ বিভিন্ন এলাকায় ফুলের খুচরা বাজার গড়ে উঠলেও, রাজধানীতে ছিল না এ পণ্যটির পাইকারি বাজার। ফুল দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এর সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল ব্যবসায়ীদের।
এমন বাস্তবতায় শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) গাবতলীতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ফুলের পাইকারি বাজারের এ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফুলের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভবনে এখনো নির্মাণ হয়নি কোনো দোকান। ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনে কোথায় কোন দোকান হবে তাও ঠিক হয়নি। ২০ টন ধারণক্ষমতার দুটি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে নিচ তলায়। এছাড়া ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণের কিছু যন্ত্র বসানো হয়েছে। তবে বাজারে প্রবেশেপথ সরু ও ভাঙাচোরা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। এছাড়া বাজারের সামনে-পেছনে ইট, বালু, সিমেন্ট, ও পাথরের গদি থাকায় ফুল সংরক্ষণ নিয়েও চিন্তিত ব্যবসায়ীরা।
ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেরি হলেও তাদের প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। তবে গাবতলীর বাজার দ্রুত চালু করতে হবে, পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই তারা লাভবান হবেন।
ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমস্যা সমাধানে নিয়ে তারা কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশ্বাস পেয়েছেন।
জানতে চাইলে ফুল ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এটা ঢাকার প্রবেশ পথে পড়েছে, এটা ভালো। কিন্তু অনেক দূরে বা এক পাশে পড়ে গেছে। এখান থেকে আগারগাঁও, শাহবাগের দূরত্ব ভালোই। এখানকার যোগাযোগ নিরাপদ না। আমাদের ব্যবসা শুরু হয় গভীর রাতে। মানে রাত ২টা থেকে মাল আনা-নেওয়ার কাজ শুরু হয়।
তিনি বলেন, এখানে কোটি টাকার ব্যবসা হবে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল। এখানে চলার পথে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এখানে আনসার ক্যাম্পের প্রয়োজন। রাস্তা সরু, এটা বাড়ানো দরকার। কেন না এ পথ দিয়ে ট্রাক আসবে। গাবতলী অনেক ঘিঞ্জি আছে, তার ওপরে বেড়িবাঁধ। এখানকার রাস্তা-ঘাট প্রশস্তের প্রয়োজন আছে। না হলে যানজট হবে, চুরি ডাকাতির ভয় থাকবে। এ বিষয়ে আমরা মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।
ফারুক নামের অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুধু ভবন নির্মাণ করলাম আর কোনো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলাম না, তাহলে তো ব্যবসা হবে না। এখানে দোকান বসাতে আরও ৬ মাসের মতো লাগবে। যেখানে পাইকারি বাজার থাকে, সেখানে খুচরা বাজারও গড়ে উঠে। এখানে বা এ বাজারের আশপাশেও খুচরা বাজার গড়ে উঠবে। এখানে ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে আরও ৬ মাস লাগবে। এটাকে ঠিক করতে হবে।’
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স সোসাইটির সভাপতি ও ফুলচাষি আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, শাহবাগ ও আগারগাঁয়ের ব্যবসায়ীদের জন্য এ ফুলের বাজার গড়ে উঠেছে। এ উদ্যোগ একটা মাইলফলক, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

তিনি বলেন, ২৫ জেলায় ২০ হাজার কৃষক ফুল চাষ করে। এ মার্কেটের কারণে ফুলের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। স্থায়ী এ বাজারের ফলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে, ফুল রপ্তানির দুয়ার খুলে যাবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম বলেন, ঢাকায় পাইকারি বাজার করা চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের প্রাণের দাবি ছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এটা করা হয়েছে। এখানে ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। এ উদ্যোগে ফুল ব্যবসার সম্প্রসারণ আরও বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে আমাদের প্রচুর ফুল নষ্ট হয়। এ বাজারের ফলে এ ক্ষতি কিছুটা কমবে। পাশাপাশি ফুল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
এসএম/এমআইএইচএস/জিকেএস