সহিংসতা পরবর্তী টেকনাফে থমথমে অবস্থা


প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৬

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় তিনজন নিহত হওয়ার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে বেশ কয়েক ওয়ার্ডে মেম্বর পদপ্রার্থীরা নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে খবর এসেছে। এতে আহত হলেও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সহিংসতার পর কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আহত ও নিহতের ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত কোথাও কোনো মামলা হয়নি।

সূত্রমতে, প্রথম দফা ইউপি নির্বাচনে মঙ্গলবার কক্সবাজারের ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে নির্বাচন পরবর্তী ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কুতুবদিয়ায় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেয়া, ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপির দু’জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেনের ভাইসহ তিনজন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নাটকীয়তার পর অবশেষে বুধবার সকালে ওই ইউনিয়নে নুর হোসেনকে ৯৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সোনা আলী ও বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে সাবরাংয়ের ৪নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়ায় মেম্বর পদপ্রার্থী ছব্বির আহমদ পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় সিকদারপাড়ার মৃত অলি আহমদের ছেলে মুছা আলী (৭৫) ও মৃত কুব্বাছ মিয়ার ছেলে নুর আহমদ (৪৫) গুলিবিদ্ধ হন।

অপরদিকে, বাহারছড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শীলখালী এলাকায় বিজয়ী প্রার্থী হাফেজ আহমদ ও পরাজিত প্রার্থী আখতার হোছাইনের মধ্যে দুপুর ২টায় সংঘর্ষ বাধে। এতে ৫ জন আহত হন। এরা হলেন কালামিয়ার ছেলে মাহফুজুর রহমান (৪০), মোখতার আহমদ (৭০), মৃত আহমদ হোসেনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩০), মোখতার আহমদের ছেলে আজিজুল হক (৪০) ও হুমায়ুন কাদের (২৪)।

এছাড়া মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিজয়ী প্রার্থী মো. ইলিয়াছ ও পরাজিত প্রার্থী আমির হোছন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলেন নোয়াখালী পাড়ার মৃত ফজল হকের ছেলে ছৈয়দুল হক (৭২), মমতাজ আহমদের ছেলে আয়াতুল তানজিদ (১৯), ফরিদ আলমের ছেলে মো. রুবেল (১৮)। আবদুল কাশের ছেলে আলী হোছেন (২৪), মো. ইসলামের ছেলে বশির আহমদ (লেডু) (২৪) সোলতান আহমদের ছেলে মোহাম্মদ মিয়া (৩০)।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এব্যাপারে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

সমগ্র বিষয় নিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, বর্তমানে কক্সবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছে পুলিশ।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।