কাজী নজরুল ইসলামের সাপুড়ে থেকে নীলাখ্যান


প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন মঞ্চনাটক দ্রোহ ও প্রেমের কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ‘সাপুড়ে’ গল্প আশ্রয়ে ‘নীলাখ্যান’।

এটি মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৩৬তম প্রযোজনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আনন জামান রচিত এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক নির্দেশিত মানব প্রেমের অমর উপাখ্যান এই নাটক। এটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি,  শান্তিনিকেতন ও বোলপুরে এ নাটকের ৩টি সফল মঞ্চায়ন সম্পন্ন হয়েছে।

সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার নাটকটির ১১তম মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার, ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা’র পরিক্ষণ থিয়েটার হলে।

নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনা ও সংগীতায়োজন করেছেন ইউসুফ হাসান অর্ক। আলোক পরিকল্পনায় ঠান্ডু রায়হান, পোষাক পরিকল্পনায় ড. সোমা মুমতাজ, কোরিওগ্রাফি জেরিন তাসনিম এশা, প্রপস পরিকল্পনা ও নির্মাণ হাসনাত রিপন, রূপসজ্জায় শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, পোষ্টার ও স্মরণিকা ডিজাইন পংকজ নিনাদ, মঞ্চ ব্যবস্থাপক জাহিদ কামাল চৌধুরী এবং প্রযোজনা অধিকর্তা মীর জাহিদ হাসান।

‘নীলাখ্যান’র অভিনয় শিল্পীরা হলেন- পলি বিশ্বাস, মনামী ইসলাম কনক, জেরিন তাসনীম এশা, কোনাল আলী চৈতী সাথী, শাহিনুর প্রিতী, তনু ঘোষ, নির্ঝর অধিকারী, আমিনুল আশরাফ, আসাদুজ্জামান রাফিন, মোহাম্মদ আহাদ, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, ইয়াছির আরাফাত, তৌহিদুর রহমান শিশির, রাসেল আহমেদ, ফেরদৌস ইকরাম, ইকবাল চৌধুরী, জাহিদুল কামাল চৌধুরী দিপু, মো. শাহনেওয়াজ এবং মীর জাহিদ হাসান।

নাটকের গল্পে দেখা যাবে- বেদিয়ার সর্দার জহরের বিষ জয় সাধনায় মনসা কর্তৃক কাম নিষিদ্ধ বলে- তার ভাষে আভাসে প্রত্যাখ্যাত ভালবাসার মানুষ বিন্তী রানী আত্মহত্যা করে আড়ালি বিলে রাশি রাশি শাদা শাপলার বনে। বেদিয়া বহরে বেড়ে উঠা সাপে কাটা মান্দাস ভাসা বালিকা চন্দনের চুলের আড়ে বিন্তীর সুরভী পায় জহর। নারী নিষিদ্ধ বলে এ বালিকা বেড়ে উঠছিল বালকের বেশে।

যাকে সন্তান করেছিল জ্ঞান- ঋতুমতি হয়ে উঠার পর তার প্রতি প্রবল রতি অনুভব করে জহর। বেদিয়া দলে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিচিত্রমুখী সংকট। চন্দনের যুবা সমাজে তাকে প্রেম নিবেদন করে মৌটুসী আর চন্দন ঠোটে মালতী ফুলের লাল ডলে ঝুমরোর সামনে দাঁড়ায়।

বেদিয়াদের উৎসবে চন্দনের নারীত্ব উন্মোচন হলে দলের অতিপ্রাকৃত বৃদ্ধ ঘন্টাবুড়ো বেদিয়া দল ও জহরকে তিনটি অনিবার্য ভবিতব্যের ঘোষণা দেয়।

সামগ্রিক দৃশ্যকাব্যে ক্ষণে ক্ষণে তিনটি ভবিতব্য ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠে। যাকে পিতা মানে তাকে পতি মেনে নিতে পারে না চন্দন। ঝুমরোর জন্য জহরের ঝাঁপিতে আছে দাঁত না ভাঙা পোষা সাপ। শাওনের অখণ্ড চাঁদের সাঁজ বেলায় আকাশজুড়ে যেন মনসার নীল মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। জহরের অন্তরে তখন বাজে- চন্দন চেয়েছিলো গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া। সে ক্ষণে একশতম সাপের দংশন নেবে জহর- মন্ময় নীলের দোলাচলে সে চিত্রল ফণায় টোকা দিয়ে সাপটিকে ক্রোধমত্ত করে তোলে।

এলএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।