যোগ্য দলই উঠেছে ফাইনালে

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

কী অসাধারণ একটা ম্যাচ দেখলাম! টি-টোয়েন্টির একেবারে আদর্শ ম্যাচ বলতে যেটাকে বোঝায় সেটাই। ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ২২৯ রান তাড়া করে জয়ের সেই ম্যাচটি হয়তো এর চেয়েও বিগ স্কোরিং হয়েছিল; কিন্তু এটা তো নকআউট ম্যাচ, সেমিফাইনাল। এই ম্যাচের সঙ্গে যে আর কোনো ম্যাচেরই তুলনা চলে না। দু’দলই করেছে অসাধারণ ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম এমনিতেই রান প্রসবা। এখানে অনেক রান ওঠে। আইপিএলেও দেখা গিয়েছিল। ভারতের ১৯২ রান দেখে ভেবেছিলাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিততে না পারলেও ম্যাচটা খুব ক্লোজ হবে। তবে দলটির দুই সেরা ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল আর মারলন স্যামুয়েলস যখন আউট হয়ে গেলেন, তখন মনে হলো যে, না আর মনে হয় সম্ভব নয় ক্যারিবীয়দের জন্য। সহজেই জয় পেয়ে ফাইনালে উঠে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ; কিন্তু সবার ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে দিলো ক্যারিবীয়রা।

লেন্ডল সিমন্স, চার্লস জনসন আর আন্দ্রে রাসেল খেলেছেন এক কথায় অসাধারণ। গেইল আর স্যামুয়েলস আউট হওয়ার পরও তারা যেভাবে ম্যাচটাকে বের করে এনেছে তাতে সত্যিই অবাক হয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে শুধু গেইল আর স্যামুয়েলস নির্ভর নয়, সেটাই প্রমাণ করলো তারা। আর দলটি যখন এক হয়ে যায়, ‘একটি দল’ হিসেবে খেলে তখন তারা যে খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে যায়, এই ম্যাচই তার বড় প্রমাণ।

আর লেন্ডল সিমন্সের কথা বলবো, প্রথমে ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। আবার আরেকজনের ইনজুরির কারণে (আন্দ্রে ফ্লেচার) দলে ফিরলেন। ফেরাটা যে তার এমন রাজকীয় হবে তা খোদ তিনি নিজেও সম্ভবত ভাবতে পারেননি। তবে তার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হয়েছে,  এই মাঠটা তার খুব পরিচিত। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে গত আইপিএলে খেলার কারণে ওয়াংখেড়ে তার কাছে একেবারে যেন ঘরের মাঠ। সে অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে পেরেছিল সে। আর দুটি নো বলের কারণে তো সৌভাগ্যটা যেন তার হাতে এসেই ধরা দিয়েছে।

braver
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, দ্বিতীয় ইনিংসের সময় বেশ শিশির পড়তে দেখা গেছে। যে কারণে ভারতের স্পিনারগুলো খুব একটা ভালো বল করতে পারেনি। বল গ্রিপ করতে সমস্যা হয়েছে। তারওপর, আমার কাছে মনে হয়েছে ভারতের আর একজন সিমার থাকলে ভালো হতো। এই উইকেটে স্পিনারদের চেয়ে সিমাররাই হতো সবচেয়ে বেশি ভালো বল করতে পারতো। ম্যাচ শেষে মহেন্দ্র সিং ধোনির কথাতেই সেটা শুনলাম।

আমার মনে হয় না টি-টোয়েন্টিতে এতগুলো ব্যাটসম্যান প্রয়োজন। টপ অর্ডারের ২-৩ জন ভালো খেলতে পারলেই স্কোর দাঁড়িয়ে যায়। বোলার বেশি থাকলে অধিনায়কের হাতে অপশন থাকে। সেই অপশনগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কাজে লাগানো যায়। কিন্তু ধোনির হাতে কেমন যেন অপশন ছিল খুবই কম।

ভারতের বিরাট কোহলির কথা আলাদাভাবেই বলতে হয়। পুরো টুর্নামেন্টেই অসাধারণ খেলেছেন। একা দলটাকে টেনে নিয়ে এসেছেন সেমিফাইনাল পর্যন্ত। এই ম্যাচেও তো তার কল্যাণে ভারত এতদূর আসতে পেরেছে। ৪৭ বলে অপরাজিত ৮৯ রান। খুবই ঈর্ষণীয় একটি ব্যাটিং পারফরম্যান্স। রোহিত শর্মাও ফর্মে ফিরেছেন কিছুটা। আজিঙ্কা রাহানেও খুব ভালো খেলেছে। এ কারণেই তো ১৯২ রানের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এই রানও শেষ পর্যন্ত মামুলি হয়ে গেলো!

শেষ পর্যন্ত তারা যেভাবে খেলে ব্যাট করে জিতেছে তা অবশ্যই প্রশংসার  দাবি রাখে। এই দলটি শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সস করে আসছে। দলীয় সংহতি যাকে বলে। ক্যারিবীদের সাফল্যের মূল মন্ত্রও এটা। একটি দল হিসেবে তারা যখন খেলবে, তখন তারা সত্যি সত্যি দুর্ধর্ষ হয়ে উঠবে। ফাইনালেও ইংল্যান্ডের জন্য নিশ্চিত হুমকি হয়ে থাকলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

লেখক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক

আইএইচএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।